টাঙ্গাইলে ঈগল পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি ও এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড এবং সোহাগ পল্লী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- আওয়াল (৩০) আর নুরুন্নবী (২৬)।
শুক্রবার (৫ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে গাজীপুরের সূত্রাপুর টান কালিয়াকৈর এলাকা থেকে আওয়াল এবং তার দেওয়া তথ্যমতে কালিয়াকৈরের সোহাগপল্লী এলাকা থেকে সকাল ৯টায় নুরুন্নবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার আরটিভি নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আওয়াল গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে ও নুরুন্নবী কুড়িগ্রাম জেলার রৌমার উপজেলার ধোনারচর গ্রামের বাহাজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়া রাজা মিয়ার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আওয়াল ও নুরুন্নবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদ করা হচ্ছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এর আগে এ ঘটনায় জড়িত রাজা মিয়াকে (৩২) গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তুলে তার সাত দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার নারী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, রাজা মিয়া ডাকাতির সময় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বাসটি চালাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আরও তথ্য দিয়েছেন। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
গত মঙ্গলবার রাতে ঈগল এক্সপ্রেসের একটি বাস কুষ্টিয়ার ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে যাত্রীবেশে ডাকাত দল উঠে প্রথমে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে যাত্রীদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর এবং লুটের পর এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। ডাকাত দল বাসটি ঘুরিয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের সামনে ফেলে রেখে নেমে যায়।
ধর্ষণের শিকার নারীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এরপর তাকে আদালতে পাঠানো হয়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।