মেডিকেলে পড়তে না পারার হতাশা থেকে সাদিয়ার আত্মহত্যা!
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 11 May, 2022, 6:07 PM
মেডিকেলে পড়তে না পারার হতাশা থেকে সাদিয়ার আত্মহত্যা!
মেডিকেলে পড়তে চেয়েছিলেন সাদিয়া তাবাসসুম। পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। কিন্তু চান্স পাননি। পরে ভর্তি হোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে। মেডিকেলে পড়তে না পারার হতাশা থাকার পরও বেশ ভালেভাবেই গুছিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। কিন্তু সম্প্রতি তার পরিচয় একজন মেডিকেলে চান্স পাওয়ার খবরে আবারো সেই পুরনো হতাশা তাকে ঘিরে ফেলে। শেষ পর্যন্ত চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে এই রাবি ছাত্রী।
সাদিয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের বিষমপুর গ্রামে। সে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মাহবুব রশিদ ফারুকের মেয়ে।
জানা যায়, সাদিয়া স্বপরিবারে ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করেন। ঈদের আগে সবাই গ্রামের বাড়িতে আসেন। দুপুরের পর সাদিয়া নিজের ঘর দরজা বন্ধ করে রাখেন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্য তাকে অনেক ডাকাডাকি করলেও দরজা খোলেননি। পরবর্তীতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
সাদিয়ার চাচা মো. কবীর উদ্দিন বলেন, সাদিয়ার ইচ্ছা ছিলো মেডিকেলে পড়বে। চান্স পায়নি, তারপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু এরপরও তার মধ্যে বিষন্নতা দেখা যেতো। এবার তার আরেক পরিচিতজন মেডিকেলে চান্স পায়। এ নিয়ে সে ব্যাপকভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তাকে এ জন্য চিকিৎসা করানো হচ্ছিলো।
সাদিয়ার সহপাঠীরা জানান, ব্যক্তিগত কিছু কারণে বেশ কিছুদিন যাবত মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। যার ফলে এবছর ইয়ার ড্রপও দিয়েছেন সাদিয়া। তাছাড়া কয়েকমাস ধরে ফেসবুক আইডিও ডিএকটিভ রেখেছিলেন তিনি।
গৌরীপুর থানার এসআই মাইনুল রেজা বলেন, মাঝে বেশকিছু দিন সাদিয়ার লেখাপড়া বন্ধ ছিলো। যে কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ সব কারণে সাদিয়া আত্মহত্যা করতে পারেন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সোহেল কবির বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি। এটা খুব হতাশাজনক। আমাদের একজন শিক্ষার্থী এভাবে মারা যাবে, আমরা ভাবতেও পারেনি। তবে কি কারণে আত্মহত্যা করেছে সঠিক কারণ বলতে পারছি না।
গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার পূর্বে সাদিয়া তাবাসসুম তার বাবার ডায়েরিতে চিরকুট লিখে গেছেন। যেখানে লেখা আছে, চোরাবালির মতো ডিপ্রেশন, বেড়েই যাচ্ছে, মুক্তির পথ নেই, গ্রাস করে নিচ্ছে জীবন, মেনে নিতে পারছি না।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুরে নিজ ঘরে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দেয় সাদিয়া। পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।