ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রেমে ছ্যাঁকা খাওয়ার ভয়ে বিসিএস প্রতারণা করেন বিপ্লব!
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 28 April, 2022, 2:51 PM

প্রেমে ছ্যাঁকা খাওয়ার ভয়ে বিসিএস প্রতারণা করেন বিপ্লব!

প্রেমে ছ্যাঁকা খাওয়ার ভয়ে বিসিএস প্রতারণা করেন বিপ্লব!

কৃষক পরিবারের সন্তান বিপ্লব কুমার দাস। বানেভাসা খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে  সরকারি বিভিন্ন বিভাগে চাকরির জন্য চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো চাকরির পরীক্ষায় দিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি৷

হাজারো স্বপ্ন দেখা দরিদ্র পরিবারের একের পর এক স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হতে থাকে। এদিকে চাকরি না থাকায় প্রেমিকার কাছেও ছ্যাঁকা খাওয়ার উপক্রম। এমন পরিস্থিতিতেই বিসিএস নিয়ে প্রতারণার কৌশল মাথায় আসে বিপ্লবের।

মূলত বন্ধু এবং প্রেমিকার কাছে নিজের গুরুত্ব বাড়াতেই এমন অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নেন তিনি।

সম্প্রতি গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবাইকে তাক লাগিয়ে ৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণের কথা জানান বিপ্লব কুমার দাস।

তিনি দাবি করেছিলেন, পুলিশ ক্যাডারের তালিকায় তার অবস্থান ৩৬তম। বিপ্লবের এমন সাফল্যে অভিনন্দনের জোয়ার চারদিকে গড়িয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম কোনো ছাত্র বিসিএস ক্যাডার হওয়ায় উৎসব ছিল সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় বিপ্লবের এ সাফল্য নিয়ে করা হয় বিশেষ প্রতিবেদনও। কিন্তু বাস্তবে বিপ্লব পুলিশ ক্যাডার হননি।

বিপ্লব তার ক্যাডার হওয়া নিয়ে বিসিএস পরীক্ষার যে প্রবেশপত্র তাতে রোল নম্বর ছিল ১৪০১১০৭৩।  

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তথ্যানুযায়ী, এই রোল নম্বরে পরীক্ষা দিয়েছেন মারজিয়া রহমান নামে এক শিক্ষার্থী।

জানা যায়, মারজিয়া রহমান পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তিনি। পরিবারসহ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন খুলনা শহরে। অপরদিকে ভুয়া পরিচয় দেয়া বিপ্লব কুমার দাসের বাড়িও খুলনার পাইকগাছায়।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয় বিপ্লব দাসের সঙ্গে। তিনি তখনো দাবি করছিলেন, ৪০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু প্রবেশপত্র চাইলে দিতে অস্বীকার করেন। নানা প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে বিপ্লব স্বীকার করেন পুলিশ ক্যাডার উত্তীর্ণ হননি।

বিপ্লব জানান, খেটে খাওয়া পরিবারের সন্তান তিনি। অনেক কষ্টে পড়াশোনা করিয়েছেন বাবা। সরকারি চাকরির চেষ্টা করেও এতদিনে তিনি চাকরি পাননি। বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনদের কাছে মুখ দেখাতে পারছিলেন না। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতেই বিসিএস উত্তীর্ণের ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাফল্যের বিষয়ে সাক্ষাৎকারও দেন তিনি।

বিপ্লব বলেন, আমি প্রলোভনের শিকার। একজন মানুষ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ভয় ছিলো, বন্ধুবান্ধবদের কাছে ছোট হয়ে যাচ্ছিলাম। তাই সবার কাছে বড় হতেই পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হওয়ার পরিচয় দিয়েছি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status