ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
টাকার অভাবে একসময় বই কিনতে পারেননি জাতীয় হিরো রিপা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 23 December, 2021, 6:03 PM

টাকার অভাবে একসময় বই কিনতে পারেননি জাতীয় হিরো রিপা

টাকার অভাবে একসময় বই কিনতে পারেননি জাতীয় হিরো রিপা

ভারতকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। দলের এই অর্জনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহেদা আক্তার রিপা। টুর্নামেন্টে পাঁচ গোল করে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়। অথচ ‘জাতীয় হিরো’ হয়ে ওঠা রিপা একসময় টাকার অভাবে কিনতে পারেননি বই!

কক্সবাজারের এই মেয়ের জীবনের গল্প অনেক কাঠখড় পোড়ানোর। বাবা-মা, তিন বোন ও এক ভাই নিয়ে রিপার পরিবার। এই বড় পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন রিপার বাবা জালাল আহমেদ। দিনমজুরের কাজ করতেন তিনি। দিন মজুরের কাজ করেও সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।

সাধ থাকলেও ঘাটতি ছিল সাধ্যের। সেই দিনগুলো ভুলে যাননি রিপা। তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার ভাই বোন কখনো গাইড বই কিনতে পারিনি। প্রাইভেটও পড়তে পারিনি। এভাবেই আমরা পড়াশোনা করেছি।’

রিপার বাবা জালাল আহমেদ এখন শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেন না। সংসারের দায়িত্বটা নিয়েছেন তিন ভাই বোন মিলে। ভাই সবার বড়। কক্সবাজারে এক ডিগ্রি কলেজে পড়ার পাশাপাশি ছোটখাটো একটা চাকরি করেন। রিপার বড় এক বোন, সে-ও পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেন। রিপা বোনদের মধ্যে মেজ।

রিপা ছোট হলেও ফুটবলের সুবাদে বড় ভাই-বোনের চেয়ে পরিবারকে বেশি আর্থিক সহায়তা করতে পারেন। তার ভাষায়, ‘আমি যেহেতু খেলাধুলা করি তাই আমি ওদের চেয়ে একটু বেশি সহায়তা করতে পারি। আমরা ভাই বোনরা চাইতাম বাবার যেন আর কষ্ট না করতে হয়। সেই কষ্ট লাঘব হওয়ায় এখন আমি তৃপ্ত।’

রিপাদের বাড়ি ছিল আগে মাটির ঘরের। মাসখানেক আগে রিপার অর্থে ও ভাই-বোনদের সাহায্যে বাড়িটি পাকা হয়েছে। দারিদ্র্যের কষাঘাতে রিপা শৈশব জীবনে যখনই সময় পেয়েছেন তখনই ব্যাট-বল নিয়ে ছুটেছেন।

তিনি বলেন, ‘স্কুলে যেতাম। অনেক দিন বাবার সঙ্গে কাজও করেছি মাঠে। এর ফাঁকে যখনই ছুটি পেতাম তখনই খেলাধুলা করতাম। বাবা-মা খেলার প্রতি ভালোই উৎসাহ দিয়েছেন। তাদের বাধা পেলে এই পর্যায়ে আসতে পারতাম না।’

রিপার ফুটবলে আসার গল্পটাও দারুণ। এই ফুটবলার বলেন, ‘আমি ক্রিকেটেও অনেক ভালো খেলি। বিকেএসপিতে ভর্তির সময় আমার ফুফাতো ভাই বলেছিল ফুটবলে ট্রায়াল দিতে। ফুটবলে ট্রায়ালে টিকে যাওয়ার পর থেকেই ফুটবল আমার ধ্যানজ্ঞান। না হলে ক্রিকেটারও হতে পারতাম।’

বিকেএসপিতে এখন দশম শ্রেণীর ছাত্রী রিপা। ২০২২ সালে দেবেন এসএসসি পরীক্ষা। ফুটবলের মাধ্যমে তিনি দেশকে আরো অনেক কিছু দিতে চান জানিয়ে বলেন, ‘জাতীয় ফুটবলের সাফল্যেও আমি ভূমিকা রাখতে চাই।’

রিপার মতো দলের অন্য সবারও উঠে আসার গল্পটা প্রায় একই রকম। পরিবার, সমাজসহ আরও অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তারা দেশকে এনে দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। দেশের এই অর্জনে তারা যেন যোগ্য সম্মান পান, সেটাই প্রত্যাশা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status