দেশের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। আধিপত্য, স্বচ্ছতার অভাব ও সমন্বয়হীনতাসহ নানা কারণে নিঃশেষের পথে রয়েছে জোটটি।
জোটের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে দলের সংখ্যা। বর্তমানে জোটে দল রয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে তিনটি দল রয়েছে, যা ব্যক্তিনির্ভর। পাশাপাশি একটি দলের চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন।
সূত্র আরো জানায়, ধর্মভিত্তিক দলগুলোও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে চলে গিয়েছে। দুই বছর আগে আন্দালিব রহমান পার্থ নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় পার্টিও (বিজেপি) জোট ছেড়েছে।
শুধুমাত্র অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ও সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীমের কল্যাণ পার্টিসহ নাম সর্বস্বদল রয়েছে। এসব দল জোট থেকে যেকোনো সময় ত্যাগ করতে পারে।
জোট সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিএনপি ‘একলা চলো’ নীতি অনুসরণ করার কারণেই মূলত এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, অনেক দিন ধরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কোনো কার্যক্রম নেই। ২০২০ সালের জুলাই মাসে জোটটির সর্বশেষ বৈঠক হয়। দীর্ঘদিন কোনো বৈঠক বা কর্মসূচি না থাকা নিয়ে জোটের কোনো নেতাই মুখ খুলছেন না। জোটে ২০টি রাজনৈতিক দল থাকলেও শরিকদের অনেকে বেরিয়ে গেছেন। সপ্তম দল হিসেবে সর্বশেষ চলতি বছরের ১ অক্টোবর ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করে কওমি মাদরাসাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস।
এর আগে ২০১৬ সালের ৭ জুন মুফতি ফজলুল হক আমিনীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ঐক্যজোট (নিবন্ধিত), ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (নিবন্ধিত), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ও লেবার পার্টি, ২০১৯ সালের ৬ মে আন্দালিব রহমান পার্থ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), ১৪ জুলাই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করে।
২০ দলের কার্যক্রম ও বিএনপির মনোভাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, ২০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক দলের সবগুলোর নাম ও তাদের নেতার নাম কেউ বলতে পারে? ২০ দলে বিএনপির ওপর সবাই নির্ভরশীল। যখন অন্যান্য দল বিএনপির মতো প্রভাব খাটাতে চায় তখন তা মেনে নেয়া যায় না। ২০ দলীয় জোটের যেসব নেতা রয়েছে তারা তো বিএনপির সমর্থন ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও হতে পারবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে জোটের শরিকরা মূল্যায়ন পাননি। ২০১৪ সালে জোটের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় ছিল। এখন তা নিঃশেষের পথে রয়েছে।