ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ● ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকায় সক্ষমতার দ্বিগুণ যানবাহন চলে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 19 November, 2021, 10:34 AM

ঢাকায় সক্ষমতার দ্বিগুণ যানবাহন চলে

ঢাকায় সক্ষমতার দ্বিগুণ যানবাহন চলে

ঢাকায় নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। এর মধ্যে গত ১০ বছরে নিবন্ধন হয়েছে কম-বেশি ১১ লাখ। বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ির মতো অযান্ত্রিক বাহনের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ। এগুলোর সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে চলছে আরো কয়েক লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এ বিপুলসংখ্যক যানবাহনের বিপরীতে চলাচল উপযোগী সড়ক রয়েছে মাত্র ৩৬০ কিলোমিটার। বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যানবাহন চলছে ঢাকার প্রায় সব সড়কেই। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, রাজধানীর সড়কগুলোয় এখন ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় চলাচলকারী যানবাহনের সক্ষমতা দ্বিগুণেও উঠে যাচ্ছে।


ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রাইমারি সড়ক আছে ২০০ কিলোমিটার। সেকেন্ডারি সড়কের পরিমাণ ১১০ কিলোমিটার। এগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে আরো ৫০ কিলোমিটার ফিডার রোড। মূলত এ ৩৬০ কিলোমিটার সড়ক নেটওয়ার্কই ঢাকার বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচলের মূল ক্ষেত্র। এর বাইরে দুই সিটি করপোরেশনের সরু সড়ক রয়েছে ২ হাজার ৬৪০ কিলোমিটার, যেগুলোয় অযান্ত্রিক বাহনই বেশি চলে।


ডিটিসিএর সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) হালনাগাদের জন্য একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার ক্রমবর্ধমান যানবাহনের সংখ্যা সড়কের বিদ্যমান সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। পিক আওয়ারে ঢাকার প্রায় সব সড়কে যানবাহন চলাচল করছে সক্ষমতার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা পৌঁছাচ্ছে সক্ষমতার দ্বিগুণেও।


তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ঢাকার সড়কে সক্ষমতার দ্বিগুণের চেয়েও অনেক বেশি যানবাহন চলাচল করছে। এতে করে ঢাকার উন্নয়নে একের পর এক ফ্লাইওভার, ওভারপাসের মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পরও যানজট কমছে না। বরং দিন দিন যানবাহনের গড় গতি মানুষের হাঁটার গতির চেয়েও কমে যাচ্ছে।


ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো নিয়ে ডিটিসিএর করা এক প্রতিবেদনেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি গাড়ি চলাচলের তথ্য উঠে এসেছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার ২৬টি মোড় পরিদর্শন করে প্রায় সবক’টিতেই কোনো না কোনো ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা খুঁজে পেয়েছে ডিটিসিএর পরিদর্শক দল। সেসব ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার কারণে একদিকে যেমন মোড়গুলোর সক্ষমতা কমেছে, তেমনি ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যানবাহন চলাচল করায় দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট।


গোলাপ শাহ মাজার, জিরো পয়েন্ট, নয়াপল্টন, দৈনিক বাংলা মোড়, ফকিরাপুল, টিঅ্যান্ডটি কলোনি, শহীদবাগ, মালিবাগ, শান্তিনগর, পল্টন, গুলশান-১, মতিঝিল পেট্রল পাম্প, আউটার সার্কুলার রোড, কমলাপুর, সিটি সেন্টার, শাপলা চত্বর, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, বাংলামোটরসহ আরো কয়েকটি ইন্টারসেকশনে এ ধরনের সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে ডিটিসিএ। এর বাইরে বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর-১০, কাকরাইলের মতো ইন্টারসেকশনগুলোয় ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি যানবাহন চলাচল করার কথা জানিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।


ঢাকার সড়কগুলোর সক্ষমতা নিয়ে এডিবির প্রতিবেদনটির তথ্য উল্লেখ করে জানতে চাইলে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ঢাকায় ২০০৫ সালে যখন কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) করা হয়েছিল, তখনই সড়কে সক্ষমতার দেড় থেকে পৌনে দুই গুণ বেশি যানবাহন চলাচলের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এখন তো পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। আগের চেয়ে যানজট পরিস্থিতি এখন অনেক বেশি তীব্র। যানবাহনের গড় গতি প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। এ সময়ে ঢাকায় যে কয়টি ফ্লাইওভার তৈরি হয়েছে, সেগুলো সড়কের কিছুটা পথ যানবাহনকে সহজেই পার হওয়ার সুযোগ দিলেও মোড়গুলোয় ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মোড়গুলোয় ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গাড়ি একসঙ্গে চলে আসছে, যা থেকে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।


বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার সড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধির ‘ফিজিক্যালি’ কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাস্তা বাড়ানোর যেহেতু সুযোগ নেই, সেহেতু রাস্তার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। গাড়ি রাস্তায় কত চলল সেটাকে বিবেচনায় না নিয়ে রাস্তা ব্যবহার করে কত মানুষ গন্তব্যে গেল সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এটা করতে হলে ব্যক্তিগত যানবাহনকে নিরুৎসাহিত করে আধুনিক ও উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।


একদিকে যেমন অতিরিক্ত গাড়ির কারণে ঢাকার সড়কের সক্ষমতা কমছে, তেমনি আরেকদিকে অবৈধ দখল, অবৈধ পার্কিং, রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, বাস বা অন্য গণপরিবহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার কারণেও কমছে সড়কের সক্ষমতা। একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত বুয়েটের তিন শিক্ষার্থীর সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকার আউটার সার্কুলার সড়কের ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, তোপখানা সড়কের ৭ দশমিক ৫৪, মতিঝিল সড়কের ২৫ দশমিক ১৪, পান্থপথ সড়কের ১১ দশমিক ৩৬, কাঁটাবন সড়কের ৬ দশমিক ৬৯, শাহবাগ সড়কের ৩ দশমিক ৯২ ও গ্রীন রোডের ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ সক্ষমতা কমেছে।


ঢাকা শহরের সড়কগুলোর এ স্বল্প সক্ষমতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার আলোকে মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে মানুষ এসবের সুফল পাবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status