ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১৮ মে ২০২৬ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চিন্তা-ভাবনা করে চালাতে হবে: আইজিপি
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 16 November, 2021, 7:34 PM

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চিন্তা-ভাবনা করে চালাতে হবে: আইজিপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চিন্তা-ভাবনা করে চালাতে হবে: আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, সাইবার বিশ্বে নারীরাই বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্র-সমাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পর্যায়েও এর শিকার হয়। তবে হয়রানির শিকার হলে লুকিয়ে না থেকে পুলিশের সহায়তা নিতে হবে, পুলিশকে জানাতে হবে, অপরাধীদের বিপক্ষে অবস্থান নিতে হবে।

তবে এমন হয়রানি প্রতিরোধে সর্বপ্রথম নিজেকেই সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চিন্তা-ভাবনা করে চালাতে হবে। ওখানে কোনটা দেওয়া যাবে, কোনটা দেওয়া যাবে না এবং কোনটা গ্রহণ করতে হবে, কোনটা গ্রহণ করা ঠিক হবে না- সেই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরে ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ এর বর্ষপূতি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।     

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাইবার স্পেসে হয়রানির শিকার ১২ হাজার ৬৪১ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ জিডি বা মামলা করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৭ হাজার ২৮০ জন সেবাপ্রত্যাশী যোগাযোগ করেছেন। হয়রানি সংক্রান্ত ১২ হাজার ৬৪১ অভিযোগের মধ্যে আট হাজার ২২১ জনকে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তিগত ও আইনগত পরামর্শ এবং সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা চাই না কোনো নারী-পুরুষ ভিকটিম হোক। তারপরেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো নারী যদি ভিকটিম হয়েই যান তাহলে সেটি লুকিয়ে রাখবেন না। আমরা চাই, অপরাধীদের শাস্তি হোক। সামাজিক কারণে অনেকেই এ সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা-মোকদ্দমা করতে চায় না। তরুণ মেয়েরাই মূলত ভিকটিম হচ্ছে বেশি। সমাজ বা সম্মানের ভয়ে তারা অভিযোগ করতে চায় না। সবচেয়ে মুশকিল হয় তখনই, যখন অপরাধীকে শনাক্ত করার পরে ভিকটিক পিছু হটে। তাই আমাদেরকে এটা মোকাবিলা করতে হবে। সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে হবে। সাইবার ওয়ার্ল্ডে নানা ধরনের প্রোপাগান্ডায় রাষ্ট্র, ব্যক্তি ও সমাজ ভিকটিম হচ্ছে। সাইবার বুলিং ও সাইবার সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে নারীরা সবচেয়ে বড় ভিকটিম। এই প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে বুঝতেই পারেন না, তারা এই সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন। যারা এই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন তারাই বুঝতে পারেন কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। এর ফলে ব্যক্তির মানবিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, এক তরুণী ফেসবুকে নিজের অনেকগুলো ছবি আপলোড করেছেন, অথচ তিনি জানেন না ফেসবুকের সেফটি কী। তার অজান্তেই কেউ একজন ছবিগুলো কপি করে একটি ন্যুড কমার্শিয়াল সাইটে দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। ওই নারী তখনই জানতে পেরেছেন, যখন বিয়ে-সাদির বিষয়টি এসেছে। পরে ওই নারীকে আমরা সাইবার সাপোর্ট দিয়ে সাইটটি ব্লক করে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি।

আমি মনে করি, এ ধরনের ঝুঁকি যেগুলো আছে, সেসব ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে হবে। কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিকমাধ্যমে একবার যদি ছড়িয়ে পড়ে, কোটি কোটি মানুষের কাছে চলে যায়। হয়তো একটা আইডি ব্লক করা গেল, কিন্তু ওই আইডি থেকে কোটি কোটি শেয়ার-ট্যাগ হয়ে যায়।
 
পুলিশ সূত্র জানায়, এক বছরে যারা অভিযোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে হয়রানি করার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। যা মোট অভিযোগের ৪৩ শতাংশ বা পাঁচ হাজার ৪৭৫ জন। এ সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে এক হাজার ৮৮৪ জন নারীকে। আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে হয়রানি করা হয় ৯৯২ জনকে। অন্যান্য উপায়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন এক হাজার ৫১৮ জন। অভিযোগকারীর শতকরা ১৬ ভাগ ১৮ বছরের কম বয়সী। শতকরা ৫৮ ভাগ ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছর। ২৫-৩০ এর মধ্যে ভুক্তভোগী ২০ ভাগ এবং ৬ ভাগ ভুক্তভোগীর বয়স ৪০ বছরের বেশি।

ঢাকা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভুক্তভোগী এই সেলে অভিযোগ করেছেন, যা মোট অভিযোগের ৬৪ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ১৭ শতাংশ; খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ থেকে ৪ শতাংশ; বরিশাল থেকে ৩ শতাংশ ও ময়মনসিংহ থেকে ২ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। ‘সাইবার স্পেস নারীসেবা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে একবছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন। বাংলাদেশ পুলিশ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বিশ্বাসী নারীর বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ রোধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নারীর জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস নির্মাণে ভূমিকা রাখতে এক বছরের পথ অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি এবং পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের সেবাগ্রহীতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সারা দেশ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিট ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে ফেসবুক পেজটির গত এক বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status