মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তার। পাশাপাশি অর্থদণ্ড হতে পারে।
পিয়াসার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় করা মাদক মামলার অভিযোগপত্রে সিআইডি বলেছে, পিয়াসা মডেলিং পেশার আড়ালে নিয়মিত ক্লাবে যেতেন এবং ক্লাব থেকে টাকার বিনিময়ে নিয়মিত মদ সংগ্রহ করতেন। পরে এসব মাদকদ্রব্য তিনি ক্লাব ও বাসায় বিভিন্ন পার্টিতে আসা লোকজনের কাছে বিক্রি করতেন। তবে পিয়াসা কোন ক্লাব থেকে, কার কাছ থেকে কিংবা কী ধরনের মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করেছিলেন, সে ব্যাপারে অভিযোগপত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই।
খিলক্ষেত থানায় করা মাদক মামলায় পিয়াসা এবং তার সহযোগী মাসুদুল ইসলামকে অভিযোগপত্রভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়াও ভাটারা থানার মাদক মামলায় পিয়াসা ও তার সযোগী শরিফুল হাসানকে আসামি করে সিআইডি। এ দুই মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শরিফুল হাসান ও মাসুদুল মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। তাদের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখেন পিয়াসা।
চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে সাজা হতে পারে-
পিয়াসার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনের তিন মামলায় তিন ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ভাটারা থানার মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর ৩৬(১) এর ১০(ক), ৩৮ ও ৪১ ধারায়। গুলশান ও ভাটারা থানার মামলায়ও প্রায় একই ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
৩৬ (১) এর সারণি ১০ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, কারও কাছ থেকে জব্দ মাদকদ্রব্যের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম বা মিলিলিটার হলে ওই ব্যক্তির কমপক্ষে এক বছর ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হবে।
৩৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি সজ্ঞানে মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য তার মালিকানাধীন অথবা দখলি কোনো বাড়িঘর, জায়গা-জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন, যন্ত্রপাতি অথবা সাজসরঞ্জাম কিংবা কোনো অর্থ অথবা সম্পদ ব্যবহার করতে অনুমতি দেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
৪১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে কাউকে প্ররোচনা দিলে অথবা সাহায্য করলে অথবা কারও সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে অথবা এ উদ্দেশ্যে কোনো উদ্যোগ অথবা চেষ্টা করলে মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটিত হোক বা না হোক, তিনি সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মতো দণ্ড পাবেন।
প্রসঙ্গত, গত ১ আগস্ট রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বারিধারায় মডেল পিয়াসার বাসায় অভিযান চালিয়ে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে গুলশান, ভাটারা ও খিলক্ষেত থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিন মামলা করে পুলিশ। এ মামলাগুলোতে তাকে রিমান্ডে নেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।