|
একটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের দুই ভোট
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() একটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের দুই ভোট এখানে নৌকার প্রার্থী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন। এ কেন্দ্রের বাকি ভোট পেয়েছেন সেখানে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীরা। জেলা কমিটির নেতার নৌকা প্রতীক তুলে দিলেও মাত্র দুই ভোট পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সেই এলাকার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন চারজন। তারা হলেন- আব্দুল্লাহ আল মামুন (নৌকা) ছাড়াও আবু নাসের ফারুক (আনারস), মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহামন (ঘোড়া) ও মো. মোকাদ্দাসুর রহমান (হাতপাখা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বাঁশগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের ভোট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ৬২২টি। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রাপ্ত ২ ভোটের বাইরে আবু নাসের ফারুক (আনারস) পেয়েছেন ৪২৬ ভোট, মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহামন (ঘোড়া) পেয়েছেন ৬৭ ভোট ও মো. মোকাদ্দাসুর রহমান (হাতপাখা) পেয়েছেন ১৩ ভোট। এই কেন্দ্রে ১৪টি ভোট বাতিল করা হয়। এই ইউপির ১১টি কেন্দ্রে একযোগে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের নৌকার প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন পরাজিত হন। তিনি মোট ১৭৬৯ ভোট পেয়েছেন। আনারস প্রতীক পেয়েছে ৪৭১০টি ভোট, ঘোড়া পেয়েছে ৫৯৩৭ ভোট ও হাত পাখা পেয়েছে ৮৫০টি। এই ইউনিয়নে বেসরকারি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। এই ইউপির ১৮ হাজার ৩২৮টি ভোটের মধ্যে ১৩ হাজার ৫৬৬ কাস্টিং হয়। এর মধ্যে ৩০০টি ভোট বাতিল হয়। ভোটের শতকরা হার ছিল ৭৪.০১। মাদারীপুর-৩ (একাংশ সদর ও কালকিনি) আসনের মধ্যে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নটি অবস্থিত। এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ রয়েছেন। তারাই সেই এলাকার রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই আসন থেকে গত সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন আব্দুস সোবহান গোলাপ। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমার মতো মানুষ তো অস্পষ্ট বিষয়ে স্পষ্ট করতে পারে না। যারা আওয়ামী লীগের ভালো চায় না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে যারা পছন্দ করে না, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে যারা পছন্দ করে না ওই শ্রেণির লোকগুলোই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বলতে পারছি না। কালকিনির কেউ কেউ নৌকাকে পরাজিত করার জন্য আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কারো পদ আছে, কারো কারো পদ নেই। তারা হয়তো জড়িত থাকতে পারেন, আমি স্পষ্ট না।’ জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯টি ইউনিয়নেই স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আর মাত্র ৩ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটিতে নৌকার এমন ভরাডুবিতে বিভিন্ন মহলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে নৌকা কেনা-বেচা হয়েছে। যে কারণে আমরা আওয়ামী লীগের যারা ত্যাগী কিন্তু নৌকা পায়নি, তাকে সমর্থন দিয়েছি। এভাবে যদি নৌকার মনোনয়ন বাণিজ্য হয়, তাহলে আর নৌকা প্রতীক না দেয়াই ভালো।’ মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলা আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হলেও ইউনিয়ন পরিষদে মনোনীত প্রার্থীদের ভরাডুবিতে হতাশ স্থানীয়রা। অনেকেই দাবি করেছেন, মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে অযোগ্য লোককে নৌকার মাঝি করা হয়েছিল। এ কারণে এমন ভরাডুবি। আর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকা জনগণের এই রায়কে মনোনয়ন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অন্যায়ের প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। অধ্যাপিকা তাহমিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়নি। পরাজয় হয়েছে মনোনয়ন বাণিজ্যের। যারা মনোনয়ন পেয়েছে তারা এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে নৌকা কিনে এনেছে। এই কারণে জনগণ মনোনয়ন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তাদের রায় দিয়েছে। আর যারা স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন, তারা সবাই আওয়ামী লীগ করেন। কেউ আওয়ামী লীগের বাইরে নয়। আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগ যাদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলাম, সেখান থেকে ইচ্ছেমতো টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।’ এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী না হওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখব। কোন কোন কারণে প্রার্থীরা বিজয়ী হতে পারল না, সেটা আমাদের বুঝতে হবে।’ |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
