পাবনার শালগাড়ীয়া শাপলা প্লাস্টিক মোড় এলাকায় একটি বাড়িতে স্বামীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন যুথী আক্তার আদুরী নামে এক নারী। বাড়িটির মালিক চট্টগ্রামে বাস করায় ওই বাসার ভাড়া ওঠানোর দায়িত্ব ছিল পাবনা জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান আলীর ওপর। তাদের বাসাও ছিল পাশাপাশি। শাহাজাহান ও যুথী মোবাইল ফোনে মাঝেমধ্যে কথা বলতেন। একপর্যায়ে তারা পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
প্রেমের সম্পর্ক গভীর হলে ব্যক্তি জীবনে অবিবাহিত শাহজাহান যুথীকে মানসিক পীড়ন দিতেন। যুথী একপর্যায়ে শাহাজাহানের ওপর বিরক্ত হয়ে সব ঘটনা তার স্বামীকে খুলে বলেন।
তখন যুথীর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম শাহজাহানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। যুথীর স্বামী শাহজাহানকে হত্যার জন্য ঘুমের ওষুধ কিনে দেন। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রলোভন দেখিয়ে যুথী ৩১ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহজাহানকে ডেকে নিয়ে কৌশলে আটঘরিয়া থানাধীন গঙ্গারামপুর গ্রামে তাদের এক নিকট আত্মীয়ের বাড়ি নিয়ে যান।
ওই বাড়িতে জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক খাবারের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শাহজাহানকে খাওয়ান। ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত খাবার খেয়ে শাহজাহান ঘুমিয়ে পড়লে অচেতন অবস্থায় তাকে হাত-পা বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দি করে আটঘরিয়া থানাধীন গঙ্গারামপুর হাফিজিয়া মাদদ্রাসা সংলগ্ন মো. কাসেমের বাড়ির টয়লেটের সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেন আসামিরা। পরবর্তীতে যুথী ও তার স্বামী জাহাঙ্গীর ঢাকায় পালিয়ে যান।
মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে চাঞ্চল্যকর এমন হত্যার রহস্য উদঘাটনের ঘটনা জানান পাবনা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী।
তিনি জানান, হত্যায় সরাসরি জড়িত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও তার স্ত্রী মোছা. যুথী আক্তার ওরফে আদুরীকে (২৮) ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন উত্তর গাজীর চট এলাকা থেকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল ইব্রাহিম প্রামাণিক (৩০) নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
পিবিআই জানায়, গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে শালগাড়িয়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী (৪০) নিখোঁজ হন। এ বিষয়ে শাহজাহানের পরিবারের লোকজন গত ১ এপ্রিল পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করেন। এরপর ৫ এপ্রিল দুপুরে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ আটঘরিয়া থানাধীন গঙ্গারামপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মো. কাসেমের বাড়ির টয়লেটের সেফটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে শাহজাহানের পরিবারের লোকজন মরদেহটি শাহজাহানের বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় শাহজাহানের ভাই মো. আব্দুল গফুর বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে পাবনা সদর থানা পুলিশ তদন্ত করে। কিন্তু তারা কোনো কূলকিনারা না পাওয়ায় হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পাবনা পিবিআইকে দেওয়া হয়। এসআই মো. সবুজ আলী মামলাটি তদন্ত করেন।
গত ১৩ এপ্রিল আসামি মো. ইব্রাহীম প্রামানিককে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হলে হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে তিনিও জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।