করোনাভাইরাসের সময় বিহার ও উত্তরপ্রদেশে গঙ্গা ও তার তীরবর্তী এলাকায় পাওয়া মৃতদেহ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আবারও আলোচনায় কঙ্গনা রানাউত। ঈদের দিন নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন অভিনেত্রী। তাকে বলতে শোনা যায় যে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন গঙ্গায় ভাসা মৃতদেহের ছবি আসলে নাইজেরিয়ার মৃতদেহের ছবি।
কঙ্গনার দাবি, 'সম্প্রতি গঙ্গায় মৃতদেহের যে ছবি চারদিকে প্রচার করা হচ্ছে, তা গঙ্গার ছবি নয়। নাইজেরিয়ায় একটি নদীতে ফেলে দেওয়া মৃতদেহের ছবিকে গঙ্গার মৃতদেহ বলে চালানো হচ্ছে। এটা আসলে দেশকে নিচে নামানোর অপচেষ্টা'। এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর কঙ্গনা রানাওয়াতকে নিয়ে সবাই ট্রেন্ড করছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বেশ কয়েক দিন ধরেই উত্তরপ্রদেশ, বিহারে গঙ্গায় ভেসে আসা মরদেহের ছবি এসে পৌঁছাচ্ছে। মৃতদেহগুলো কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই নিয়ে স্পষ্ট কোনও প্রমাণ না থাকলেও, ঘটনার ভয়াবহতায় পুরো দেশ স্তম্ভিত। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এসবকে কঙ্গনা ভুয়া বলে দিলেন।
১০ মে সকাল থেকে বিহারের গঙ্গা নদীতে ভাসতে থাকা শতাধিক লাশের ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সেখানে ৪০টি লাশ শনাক্ত হওয়ার পর প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই আতঙ্কের মাঝেই লাশের সংখ্যা বেড়ে হয় ৭১। তবে স্থানীয়দের অনুমান, লাশের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে।
কঙ্গনা রানাউতের কাছে অবশ্য এই ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করা নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের যুদ্ধ নিয়েও বিতর্কিত পোস্ট করেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, 'উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যে কোনও জাতির মৌলিক অধিকার, ভারত ইসরায়েলের পাশে আছে'। এরপর নিজের টুইটারে সম্প্রীতি বজায় রাখা নিয়ে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইরফান পাঠান একটি পোস্ট করলে, তার সঙ্গেও নেটমাধ্যমে বিতর্কে জড়ান কঙ্গনা।
এর কিছুদিন আগেই বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে 'হেটস্পিচ' ছড়ানোর অভিযোগে কঙ্গনার টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যান করা হয়। তারপর থেকেই ইনস্টাগ্রামে নানা বিতর্কিত ভিডিও পোস্ট করছেন তিনি।