সম্প্রতি গুলিয়াখালী সী-বিচ এলাকায় ইয়াবা ও নেশাদ্রব্য বিক্রি করতে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক শহীদুল ইসলামের ভাইপো মেহেদীর সাথে সন্ত্রাসী ইয়াবা ব্যবসায়ীচক্র।
সাইফুল নয়ন নেজাম কামাল গংদের বাকবিতন্ডা থেকে হাতাহাতি ধাওয়া পাল্টা দাওয়ার মত ঘটনা ঘটবার পর অবশেষে গত ১৫ই মার্চ সীতাকুন্ড মডেল থানার এস আই আল আমীন এর মধ্যস্হতায় একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মুরাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি খোরশেদ আলম(সাবেক মেম্বর)ও মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক শহীদুল ইসলামের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হলে খোরশেদ আলম বিষয়টি তার পরিবারের সকল সদস্যকে মোবাইলে তাঁর উপর আক্রমন করেছে শহীদুল ইসলাম এমন তথ্য দেয়া হলে খোরশেদ আলমের লোকজন সীতাকুন্ড বাজারে অবস্হান নেয় এবং বাদ মাগরীবের সাথে সাথেই তারা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলামের বড়ভাই রকিয়ত উল্যাহ(৪৬)কে মারাত্নকভাবে জখম করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁঠা ও ফল বিক্রেতার থালা দিয়ে তাঁকে উপর্যুপরী মাথায় মুখে পিঠে জখম করে। ঐ অবস্হায় রকিয়তউল্যাহকে স্হানীয় জনতা উদ্ধার করে সীতাকুন্ড স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরতঃ চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্হানান্তর করে।
১৬ই মার্চ শহীদুল ইসলাম এর সহকর্মী মোঃ শাহআলম চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে আহত রকিয়ত উল্যাহকে দেখে এসে গুলিয়াখালীতে গ্রামের বাড়ী ফিরলে সন্ত্রাসীরা উঁৎ পেতে থাকে । বিষয়টি টের পেয়ে শাহ আলম স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তাঁর চাচা নুরুল আমীন শফির সহায়তা কামনা করে। নুরুল আমীন শফি মেম্বর তাঁর ভাই স্হানীয় ব্যবসায়ী নুরুল কবির রবিউলকে পাঠায় শাহআলমকে বাড়ী পৌঁছে দেয়ার জন্য। শাহ আলমকে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে উঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা আশিক, সাইফুল,নয়ন, কামালসহ প্রায় ১৫-২০জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্নক জখম করে নুরুল কবির রবিউলকে। এতে মাথায় ও পাঁয়ে মারাত্নক জখম হয়। দু'পাঁয়ে এত বেশী আঘাত করা হয় যে, যে কোন সময় চিকিৎসক পাঁ কেটে ফেলার নির্দেশ দিতে পারে বললেন নুরুল আমীন শফি মেম্বর।
মাথার অাঘাত যদি আধা ইঞ্চি গভীর হ'ত সাথে সাথেই মৃত্যূ হতে পার'ত নুরুল কবির রবিউলের। আহত নুরুল কবির রবিউলকে উন্নত চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবারের সদস্যগণ। খুব শীঘ্রই তাঁর পাঁয়ে ও মাথায় অপারেশন হতে পারে বলে জানাই তাঁর ভাই মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল আমীন শফি। গত ১৭ই মার্চ রাতে আহতের বড়ভাই মোঃ নুরুল আমীন শফি (প্যানেল চেয়ারম্যান) বাদী হয়ে ১৫জনকে উল্লেখ করে কয়েকজন অজ্ঞাতনামাসহ সীতাকুন্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। ১৭ই মার্চ মামলা হলেও এখনো পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।
এদিকে গুলিয়াখালী এলাকাটি অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় গ্রাম ছিল বলে দাবী গ্রামবাসীর। এ এলাকাটিকে বিএনপি মুজিবনগর বলতো আর জামাত বলতো সেকেন্ড ইন্ডিয়া। সেই এলাকাটিকে খোরশেদ আলম মুরাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তার ভাতিজা ভাগিনাদের দিয়ে গুলিয়াখালীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এবং এলাকার জনসাধারণকে ভয় ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে রাখতে চায় বলে অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্হানীয় গ্রামবাসীর। এলাকার শান্তিপ্রিয় জনসাধারণ এহেন কর্মকান্ড আর দেখতে চায় না।
তারা শান্তিপূর্ণ অবস্হান চায় ভবিষ্যত দিনগুলোতে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে গুলিয়াখালীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনবার জন্য স্হানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জনসাধারণ।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দায়েরকৃত মামলায় অন্তর্ভূক্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি উপরন্তু বুক ফুলিয়ে পুরো এলাকায় চষে বেড়াচ্ছে সন্ত্রাসীচক্র। দম্ভ করে বলছে এমন কোন বাপের পূতের সাহস আছে আমাদের আঁটকাতে পারে? সাধারণ মানুষের মতে, এমন দাম্ভিকতার শেষ হবে কবে- তবে? গুলিয়াখালী তথা মুজিবনগরের গণমানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।