ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬ ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন শিক্ষকদের’
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 31 December, 2020, 5:12 PM

‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন শিক্ষকদের’

‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন শিক্ষকদের’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনার কারণে এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের নতুন সংস্কৃতি চালু হয়েছে। মহামারিতে যেহেতু এখন আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতেই হচ্ছে, তাই শিক্ষকদেরও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা দরকার।’

অচিরেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনার প্রেক্ষাপটে এ বছর, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সীমিত পরিসর নতুন বই বিতরণের যৌথ আয়োজন করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে অন্তত ২৫০ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

সংক্রমণ ঝুঁকি থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ২৩ জন শিক্ষার্থীর হাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী জাকির হোসেন।

পরে, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময়, শিক্ষা খাত নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের যে মানসিক সমস্যা তৈরী হচ্ছে; তারও সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

শিক্ষা ছাড়া জাতি কখনো উন্নত হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষিত জাতি ছাড়া কখনোই সম্ভব হবে না দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা। তাই শিক্ষাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। অভিভাবকদের আর্থিক ভার লাঘব করার জন্য আমরা বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছি। এই কাজ সরকার করছে ২০১০ সাল থেকে।’

শুধু প্রচলিত ভাষায় নয়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্যও বিনামূল্যে বই দেয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। এমন কথা উল্লেখ করে এ বছর করোনার কারণে স্থবির অবস্থায় নতুন বই ছাপানো সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। শত প্রতিকূল পরিস্থিতি মাথায় নিয়ে যারা বই ছাপানোর কাজটি সম্পন্ন করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সমাগম না করে পর্যায়ক্রমে স্কুল থেকে বই সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সবাই স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলে করোনা প্রতিরোধ করুক সেটাই চাই আমরা।’

শিক্ষার্থীদের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতেই নিরাপত্তার জন্য স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘এই অচলাবস্থার মধ্যেও যাতে পাঠ্যবই পড়ার অভ্যাস নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

করোনার হাত থেকে বিশ্ব কবে মুক্ত হবে, সেটি এখন বড় দুশ্চিন্তার বিষয় উল্লেখ করে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখনই সিদ্ধান্ত নিলাম যে স্কুল খুলবো, তখনই এলো ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। কাজেই আমরা ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করেই, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রেখেছি। এর মধ্যে যদি পরিস্থিতি ভালো হয়, তাহলে খোলা হবে। না হলে খোলা হবে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের মনব্যাথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় সব থেকে কষ্ট পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। কারণ তারা একেবারেই ঘরে বসে আছে। তারপরও শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে যে, ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ কার্যক্রম। এর মাধ্যমে আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি, তার বদৌলতে এখন ঘরে বসে অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ হচ্ছে। যার ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা একেবারে শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছে না। কিছুটা কাজ তারা চালিয়ে নিতে পারছে। একইসাথে মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।’

তিনি আরও জানান, করোনার এই সময়ে অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, সরকার শিক্ষার্থীদের সব রকম বৃত্তির টাকা দেয়ার কার্যক্রম চলমান রেখেছে। জানান, কারিগরি, প্রযুক্তি শিক্ষাসহ পুরো শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে চায় সরকার। এ সময় অভিভাবকদের অনুরোধ জানাবো, করোনা অনেকাংশেই ঘরে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এই সুযোগে ছেলেমেয়েদেরকে সময় দিতে হবে আপনাদের।

নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের ২ কোটি ৩০ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১০ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৫ টি বই বিতরণ করা হবে। এছাড়া, মাধ্যমিক পর্যায়ে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২৪ কোটি ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৭ টি নতুন বই বিতরণ করা হচ্ছে। সবমিলে প্রায় ৩৫ কোটি নতুন বই পেতে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status