'বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করা বাংলাদেশের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় বিষয়'
ইউএনডিপি মানবাধিকার কর্মসূচির সহায়তায় বেসরকারি গবেষণা সংগঠন ভয়েসেস ইন্টারেক্টিভ চয়েস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (ভয়েস) এই প্রোগ্রামটির আয়োজনে ৩১ ডিসেম্বর, সকালে রাজধানীর ভয়েস সিভিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তারা বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈঠকের সঞ্চালনা করেন ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ মাহমুদ স্বপন। কর্মসূচীতে জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, সমন্বয়ক, আইইডি; সৈয়দ তারিকুল ইসলাম, সিইও, এসিএলবি; বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু সায়ীদ, স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র নির্মাতা অপরাজিতা সংগীতা, নাহিদ এ সিদ্দিকী, টেকনিকাল অ্যাডভাইজর, আর্টিকাল ১৯, শাহাদাত হোসেন মন্ডল, নির্বাহী পরিচালক উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থা এবং সাইমুম রেজা তালুকদার, সিনিয়র লেকচারার, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় “ইন্টারনেটের দায়বদ্ধ ব্যবহার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা” শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা ডিজিটাল সুরক্ষা আইন ব্যবহারের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার দমন এবং সাংবাদিক, চলচ্চিত্র নির্মাতারা, লেখক, ব্লগার এবং অ্যাক্টিভিস্টদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে মতামত প্রদানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বাংলাদেশের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী ও অমুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভয়েস-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী জায়েদ সিদ্দিকী এবং ভয়েসের প্রোগ্রাম অফিসার আবতাব খান শাওন। মূল বক্তব্যটিতে অনলাইনে নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা এবং বই ও চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে বিষয়বস্তু অবরুদ্ধকরণ এবং সেন্সরশিপজনিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু সায়ীদ বলেন, “মানুষ হিসাবে আমরা দিন দিন আরও বেশি অসহিষ্ণু হয়ে উঠছি যা আমাদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায়। গোটা অনলাইন নান ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে ভরে রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা বাধাগ্রস্ত হবে।
এছাড়াও, বাকস্বাধীনতার নিশ্চিত করার জন্য আমাদের লেখক এবং ব্লগারদেরকে সেন্সর করা বন্ধ করা উচিত এবং তাদের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার স্বাধনতা দেয়া উচিত” এছাড়াও, আলোচনায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির পুরো চিত্রও তুলে ধরা হয় এবং সবার বাকস্বাধীনতার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।