চার দিন চেষ্টা চালিয়েও নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) দুই বিরোধী গোষ্ঠীকে এক টেবিলে বসাতে পারলেন না চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের পাঠানো প্রতিনিধি দল। ফলে খালি হাতেই বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে কাঠমান্ডু থেকে দেশে ফিরে যান তারা।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, চীনা প্রতিনিধিদের একাধিক প্রস্তাবেই হোক কিংবা তাদের চাপে, প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির বিরোধী গোষ্ঠী গতকাল কিছুটা সুর নরম করেছিল। এনসিপির চেয়ারম্যান মাধবকুমার নেপাল এমনও বলেছেন যে, ‘ওলি তার ভুল স্বীকার করলেই আমরা সব কিছু ভুলে যাব।’ কিন্তু ওলি চীনা প্রতিনিধিদের প্রস্তাবে রাজি হন নি। ফলে খালি হাতেই ফিরতে হল তাদের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের ভিতর থেকেই অনাস্থা প্রস্তাব আসতে পারে- বিষয়টি বুঝতে পেরে ওলি গত ২০ ডিসেম্বর ২৭৫ আসনের পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেছেন। এতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ড ও মাধব নেপালের অনুসারীরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন।
এদিকে, বিকল্প জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারলে পার্লামেন্ট ভাঙার বিধান নেই নেপালের সংবিধানে। এই যুক্তিতে ওলির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে এক ডজনেরও বেশি মামলা চলছে। কিন্তু এক দিকে যেমন এনসিপির দুই গোষ্ঠীর সমঝোতা হয়নি, তেমনই ওলি বিরোধী দলগুলো চীনা প্রতিনিধিদের অনুরোধে প্রচণ্ড-মাধব গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে বিকল্প সরকার গড়তে রাজি হয়নি। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনও জোটের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেননি শি জিংপিংয়ের প্রতিনিধিরা।
২০১৮ সালে প্রচণ্ডের কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (মাওয়িস্ট সেন্টার) এবং ওলির কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) মিলে এনসিপি তৈরি হয়েছিল। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য কুয়ো ইয়েচোউর বিশেষ ভূমিকা ছিল তাতে। দলটি আবার ভেঙে যেতে দেখে শি জিংপিং চার সদস্যের দলকে কাঠমান্ডু পাঠান বিরোধ মিটিয়ে নেপালে চীনের প্রভাব অক্ষুন্ন রাখতে।
অন্যদিকে, ওলি টিভিতে হাজির হয়ে জানিয়ে দেন, প্রচণ্ড-মাধবরা তাকে হটাতে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছেন বুঝেই আগেভাগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন তিনি। পার্লামেন্ট পুনর্বহাল করে প্রচণ্ড-মাধবরা যদি তার সরকারকে ক্ষমতায় রাখেন, তাতেও অদূর ভবিষ্যতে যে তারা অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাকে উৎখাত করবেন না, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই চীনা প্রস্তাব মানবেন না তিনি। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা