লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরিসহ ২১ জনকে বোমা হামলায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর সদস্য সালিম আয়াচেকে পাঁচটি অপরাধের জন্য পাঁচটি পৃথক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে জাতিসংঘ সমর্থিত লেবাননের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল।
আদালতের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, হারিরিকে হত্যাকাণ্ডের জন্য গঠিত টিমে কেন্দ্রীয় ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন সালিম আয়াচে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
২০০৫ সালে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে গাড়ি বোমা হামলায় রফিক হারিরিসহ ২১ ব্যক্তি নিহত হন। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে লেবানন থেকে সিরিয় বাহিনী প্রত্যাহারের জন্য তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিসর থেকেও ক্রমাগত চাপ আসায় সেখান থেকে সিরিয় সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় প্রবেশ করা সিরিয় বাহিনী ৩০ বছর পর দেশটি থেকে বিদায় নেয়।
হারিরি তার শাসনামলে লেবাননের রাজনীতিতে সিরিয়ার প্রভাব কমাতে সক্রিয় ছিলেন। লেবাননে হেজবুল্লাহর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল সিরিয়া।
আয়াচেকে যেসব অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে তা হলো- সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে ভূমিকা, বিস্ফোরক পদার্থ ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং পূর্বপরিকল্পনার মাধ্যমে বিস্ফোরক উপকরণ ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে হারিরিকে হত্যা।
এছাড়া তার আরও দুটি অপরাধ হলো- ইচ্ছাকৃতভাবে ২১ ব্যক্তিকে হত্যা ও ২২৬ ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা। আয়াচেকে গ্রেফতারে ট্রাইব্যুনাল ২০১১ সালে পরোয়ানা জারি করে।
বিচারক ডেভিড রে আদালতের রায়ে বলেন, ‘যারা তাকে (আয়াচে) আশ্রয় দিয়ে রক্ষা করছে তাদের উচিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কাছে তাকে হস্তান্তর করা।’
এছাড়া ট্রাইব্যুনাল লেবানন সরকারকে ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।