গাইবান্ধার গোন্দিগঞ্জের মো. আবদুল ওয়াহাব নামে এক যুবককে ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি দেবার কথা বলে তার একটি কিডনি অপারেশন করে বের করে নিয়েছে সংঘবদ্ধ আর্ন্তজাতিক কিডনি পাচার চক্রের সদস্যরা।
ওই যুবককে পাসপোর্ট ও ভিসা করে কুমিল্লা জেলার বিবির বাজার স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে হত্যা ও গুম করার ভয় দেখিয়ে কিডনি নেয়া হয়। এ ব্যাপারে একজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তারের পর চক্রটি সম্পর্কে জানা যায়।
সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে, গাইবান্ধায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেসন-পিবিআই’র পলিশ সুপার মো. এ আর এম আলিফ জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন। এসময় ভুক্তভোগী মো. আবদুল ওহাব উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের এই ঘটনার বিস্তারিত জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, গোবিন্দগঞ্জের ছোট সোহাগী গ্রামের রং মিস্ত্রী আবদুল ওহাবের সঙ্গে গাজীপুর জেলায় মো. রাকিবুল হাসানের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়। সে ওহাবকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। সেই থেকে তার কোন খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। এরমধ্যে কালিয়াকৈর থেকে রাকিবুল আটক হয়। পুলিশের কাছে স্বীকার করে সে একজন ‘ডিলার’ এবং ওহাবকে কিডনি পাচারকারীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। ওহাবের বাবা আবদুল মজিদ সরকার গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে। পরবর্তীতে চক্রের সদস্য মো. রায়হান আলীকে এ বছরের ১৩ নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় । সে জানায় ওহাবকে সান এন্টারপ্রাইজের মালিক তাদের’ বস’ কবীরের মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হয়।
তিনি আরো বলেন, কবিরের সঙ্গে ওহাবের ৫ লাখ টাকায় কিডনি দেবার রফা হয়। তবে কিডনি নেবার পর তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে এজাহারভূক্ত ৪ আসামি থাকলেও অন্যদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, গত কয়েক বছরে গাইবান্ধা ও জয়পুরহাটের আশেপাশের এলাকা থেকে ৪৫ থেকে ৫০ জনকে পাচার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওহাব জানায়, চাকরির লোভ দেখিয়ে তাকে অপহরণ ও কিডনি বের করে নেয় পাচারকারীরা। ভারতে তাকে জানানো হয়, তার কিডনি ৩০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।