সম্পত্তির লোভে ২ বছরের শ্যালককে মারধর, সিগারেটের ছ্যাঁকা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 5 November, 2020, 1:49 PM
সম্পত্তির লোভে ২ বছরের শ্যালককে মারধর, সিগারেটের ছ্যাঁকা
শ্বশুরের সম্পত্তির লোভের দুই বছরের শিশু শ্যালককে মারধর, দাঁত দিয়ে কামড়ানোসহ সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুলাভাই সজল খাঁনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মেয়ে জামাতা সজল খাঁনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন শিশুটির বাবা মো. বাবুল মণ্ডল। মামলা বাদী ফুলবাড়ী পৌর এলাকার দক্ষিণ কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন ফুলবাড়ী উপজেলা পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী গ্রামের সজল খাঁন (২৮), সজল খাঁনের বাবা জামাল খাঁন (৬০), জামাল খাঁনের স্ত্রী মোছা. শাহানা বেগম (৫৫) ও পশ্চিম গৌরীপাড়া (নিমতলা মোড়) গ্রামের মো. আরিফ খাঁনের স্ত্রী মোছা. ছালমা বেগম (৩০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মণ্ডলের মেয়ে নিসাত তাছনিমের স্বামী সজল খাঁন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে শ্বশুরের সম্পত্তি তার স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়ার জন্য শ্বশুর বাবুল মণ্ডলকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এতে বাবুল কর্ণপাত না করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে শ্বশুরের ক্ষতিসাধণের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই মধ্যে দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাবুলের ছেলে হওয়ার কারণে শ্বশুরের সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যাবে-এমন আশঙ্কা থেকে সজল খাঁন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ৩১ অক্টোবর শ্বশুরকে তিনি নিজ বাড়িতে দাওয়াত দেন। শ্বশুর বাবুল মণ্ডল তার দুই বছর বয়সী একমাত্র ছেলে সোয়াতকে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। এ সময় ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সজল খাঁন তার শিশু শ্যালক সোয়াতকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান।
ওই দিন দুপুরে ফুলবাড়ী পৌর শহরের উত্তর সুজাপুর গ্রামের মুন্না ইসলাম ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠের পাশে যান। এ সময় ওই নির্জন এলাকায় শিশুর চিৎকারসহ কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার কী হয়েছে জানতে চাওয়ামাত্র শিশু সোয়াতকে ফেলে সজল খাঁন পালিয়ে যান। পরে মুন্না শিশু সোয়াতকে উদ্ধার করে সজল খাঁনের স্ত্রীকে ঘটনা জানান।
ঘটনা জানতে পেরে বাবুল মণ্ডল তার শিশুপুত্র সোয়াতকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে বাবুল মণ্ডল সজল খাঁনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরও ওই পরিবার থেকে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে বাবুল মণ্ডল মামলা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী থানার পরিদর্শক (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত বর্বরোচিত। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আরিফুজ্জামান অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করা যায়নি।’