ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২৭ মে ২০২৬ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২১ বছর পর নিখোঁজ স্বামীর প্রাপ্য অধিকার পেল স্ত্রী
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 26 July, 2020, 11:17 AM

২১ বছর পর নিখোঁজ স্বামীর প্রাপ্য অধিকার পেল স্ত্রী

২১ বছর পর নিখোঁজ স্বামীর প্রাপ্য অধিকার পেল স্ত্রী

ন্যায্য দাবি আদায়ে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ২১ বছর। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। অবশেষে একুশ বছর পর প্রাপ্য অধিকার আদায় করে নিলেন ভারতের এক নারী। এই লড়াইয়ে বিচার ব্যবস্থাকে পাশে পেয়েছেন পুরুলিয়ার ওই গৃহবধূ।

কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির দেহ না মিললে সাত বছরের আগে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা যায় না। স্বামী নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর রুদা দেবী নামে ওই গৃহবধূকে এই আইনের কথাই শুনিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা ভারত কোকিং কোল লিমিটেড সেখানেই কর্মরত ছিলেন তার স্বামী। আর সেই কারণেই স্বামীর চাকরি সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পেতে তাকে সাত বছর অপেক্ষা করতে হবে। ওই সময়ই মৃতের পোষ্য হিসেবে চাকরির ব্যাপারটি ভাবা হবে বলেও জানানো হয়েছিল তাকে। কর্তৃপক্ষের এমন যুক্তি শোনার পর অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না তার। সন্তানদের নিয়ে শত কষ্ট করেও সাতটা বছর পার করেছেন।

১৯৯৯ সালের জুলাইয়ের ঘটনা। পুরুলিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেদিন নাইট ডিউটি করছিলেন রুদা দেবীর স্বামী। হঠাৎ একদল দুষ্কৃতী লুটের উদ্দেশ্য নিয়ে অফিসে হানা দেয়। দুষ্কৃতীদের রুখতে যথাসম্ভব প্রতিরোধ করেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চুরির মাল-সহ প্রমাণ লোপাট করতে রুদা দেবীর স্বামীকেও অপহরণ করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। পোশাক মিললেও তারপর থেকে তার আর কোনও খোঁজ মেলেনি। পুলিশ সুপার রিপোর্টে উল্লেখ করেছিলেন, অপহরণের পর ওই ব্যক্তিকে খুন করে দেহ দামোদরের চড়ে কোথাও পুতে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

কোল লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কাছে পুলিশের এমন রিপোর্ট কোম্পানিতে পৌঁছনোর পরও ওই নারীকে কোনরকম সাহায্য করেনি তারা। কিন্তু, কোন অদৃশ্য কারণে সাত বছর পরও বিষয়টি কোনও সুরাহা হয়নি। অবশেষে ২০০৮ সালে বাধ্য হয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ শুনানির পর ২০১৩ সালের মে মাসে রুদাদেবীর পক্ষে রায় দেয় হাই কোর্ট। পোষ্যের চাকরি-সহ স্বামীর প্রাপ্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা তাকে মিটিয়ে দিতে বলে আদালত। এখানেই শেষ নয়। হাই কোর্টের নির্দেশের পরও নানা অছিলায় ওই নারীকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে যাচ্ছিল কোল লিমিটেড।  প্রায় ৬ বছর পর হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে তারা ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু সেখানেও হার হয় কোল লিমিটেডের। গত বছর সেপ্টেম্বরে বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার ও বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় ডিভিশন বেঞ্চও সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রেখে জানিয়ে দেয়, পুলিশি রিপোর্ট অনুযায়ী ওই নারীর নিখোঁজ স্বামীকে মৃত বলে ধরে নিতে কোনও অসুবিধা নেই। তাই কোল ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষকে তার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা মিটিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি ন্যাশনাল কোল ওয়েজ এগ্রিমেন্টের ৯.৪.২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ওই নারী বা তার প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে পোষ্য হিসেবে চাকরি দিতে হবে।

কিন্তু, রুদা দেবীকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে উঠেপড়ে লেগেছিলো কোল লিমিটেড। ডিভিশন বেঞ্চের এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে এবার তারা সুপ্রিম কোর্ট এর দ্বারস্থ হয়। দিন কয়েক আগে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা ও বিচারপতি কে এম জোসেফের বেঞ্চ ক্ষতিপূরণ-সহ রুদা দেবীর পক্ষে রায় দিয়ে জানিয়েছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে এক নারীকে তার ন্যায্য অধিকার পেতে একুশ বছর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছে। এই গাফিলতির জন্য ওই নারীকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে কোল ইন্ডিয়া। সেই সঙ্গে স্বামীর চাকরি সংক্রান্ত যাবতীয় সুবিধা-সহ মহিলা বা তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে পোষ্য হিসেবে চাকরি দিতে হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status