লাদাখ সীমান্তবর্তী গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনা সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার রাতের ওই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ভারতের অন্তত ২০ সেনার প্রাণহানি ঘটেছে, চীনেরও হতাহত হয়েছে অন্তত ৪৩ জন। তবে চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারত-চীনের মধ্যবর্তী আরেক সীমান্ত ডোকলামেও বেড়েছে উত্তেজনা।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গালওয়ান সংঘর্ষের পর ডোকলামে উপস্থিতি বাড়িয়েছে চীনা সেনাবাহিনী।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রটি জানায়, সম্প্রতি ভুটান সেনার আউটপোস্টে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটায় তারা। এরপর ডোকলাম পর্যন্ত এগিয়ে আসে। সেখানকার ভূ-কৌশলগত বেশ কয়েকটি ছবিও তারা তোলে। চীনা সেনাবাহিনীর ১০ সদস্যের দলটি প্রায় আধঘণ্টার মতো সেখানে অবস্থান করে।
সূত্রটি আরো জানায়, প্রতি মাসেই দু’এক বার চীনের সেনাবাহিনী ভুটান-চীন-ভারতের সীমান্ত সংযোগস্থলের এই মালভূমিতে টহল দিতে আসে। এক-দু’দিন থেকে ফেরত যায়। ভুটান সেনার আউটপোস্টেই তারা থাকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এনিয়ে কোনো বাধা দেয়া হয় না।
এক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডোকলামের কৌশলগত এলাকায় ভারতের সেনাও টহল দেয়। ফলে চীনা সেনাকে বাধা দেয়ার প্রশ্ন নেই। তবে এখন চীনারা ডোকলামেও পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য যাতায়াত শুরু করতে পারে। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুনে ডোকলামে প্রায় যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছিল ভারত এবং চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে। প্রায় ৭২ দিন ভারত ও চীনের সেনারা মুখোমুখি ছিল। দু’দেশের সেনাবাহিনী যেভাবে মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরবর্তীতে উভয় দেশের কূটনৈতিক আলোচনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় সেখানে।