কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের কারণে ইতালির লোম্বারদীয়া প্রদেশের ১৪টিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ৮ মার্চ থেকে আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত এ অবস্থা জারি থাকবে। ১৪ প্রদেশে প্রায় ১ মিলিয়ন লোক বসবাস করে। এ অবস্থার পর কেউ ওই এলাকা থেকে প্রবেশ এবং প্রস্থান করতে পারবে না বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে।
রেড জোন হিসেবে রয়েছে- মোডেনা, পারমা, পিয়াসেনজা, রেজিও এমিলিয়া, রিমিনি, পেসারো এবং উরবিনো, ভেনিস,পাডুয়া, ট্র্যাভিসো, আস্তি, আলেসান্দ্রিয়া, নোভারা, ভারবানো, কুসিও অসসোলা এবং ভেরসেল্লি। এসব এলাকা থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতালির সরকার বলছে, এই রেড জোনের আইন কেউ অমান্য করলে ২০৬ ইউরো জরিমানা অথবা তিন মাসের জেল দেয়া হবে। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সিনেমা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে ইতালির রাষ্ট্রপতি সেরজো মাতারেল্লা সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অনেক নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের পাশে থেকে সেবা দিচ্ছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেসব নারীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
তবে আজ (৮ মার্চ) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু হওয়ার নতুন কোনো খবর মেলেনি। এ ছাড়া যেকোনো জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির সরকার।
বিশ্বের লক্ষাধিক মানুষ এখন চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। ১০৪টি দেশে বিস্তার লাভ করা কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ৩ হাজার ৫৯৮ জন। তবে করোনায় সুস্থতার হারও অর্ধেকের বেশি।
বিশ্বের প্রথম সারির সব গণমাধ্যম আর বিভিন্ন দেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের শেষে উহান থেকে উৎপত্তি লাভের পর এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঘটনা ১ লাখ ৫ হাজার ৮০৪টি। আর প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৫৬৮ জন।
উৎপত্তিস্থল চীন প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কবলে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। দেশটির সব অঞ্চলে থাবা মেরেছে করোনাভাইরাস। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত মানুষের ৩ হাজার ৯৭ জন চীনের। এছাড়া দেশটিতে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও ৮০ হাজারের বেশি। অবরুদ্ধ হয়ে আছে কোটি কোটি মানুষ।
চীনের পর সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এই সংখ্যা এখন ৭ হাজার ৩১৩ জন। তবে চীনের পর ২৩৩ মত্যৃ নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে ইতালি। সেখানে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। ১৯৪ মৃত্যু এবং ৫ হাজার ৮২৩ আক্রান্ত নিয়ে ইরানের অবস্থান তৃতীয়।
জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনাভাইরাসের প্রকোপের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে নিচ্ছে না। এসব দেশের স্বাস্থ্যকর্মীরাই বলছেন, তাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। এদিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।