ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ৬ জুন ২০২৬ ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
৫ টাকা কেজিতেও কেউ নিতে চায় না কাঁচা আম!
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 5 May, 2019, 7:00 AM

কাঁচা আম

কাঁচা আম

তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র আগমনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। এতে মানুষের জান-মাল রক্ষা করা সম্ভব হলেও বাঁচানো যায়নি প্রকৃতিকে। শুক্রবার (৩ মে) রাতব্যাপী সাতক্ষীরার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ফসলের ক্ষেত, গাছপালা ও আম-বাগানগুলোর ওপর তাণ্ডব চালিয়ে গেছে এই ঝড়। শনিবার (৪ মে) দিনশেষে তুমুল ঝড়ো-হাওয়া থেমে গেলেও তাই এখন দমবন্ধ অবস্থা আমচাষিদের। শত শত মণ আম ঝরে গেছে ঝড়ে।

জেলার সব বাগানেই একই অবস্থা। সবার কাছেই কাঁচা আম। কিনবে কে? তাই পড়ে গেছে দর। আর এক সপ্তাহের মধ্যে পাকার কথা আগাম জাতের এসব আম, কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতো, কিন্তু এখন ৫ টাকা কেজিতে বেচতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।



সাতক্ষীরা সদরের আম চাষি মকবুল হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে আমার ২০টি বাগানের প্রায় ২৫০ মণ আম পড়ে গেছে। দুদিন আগে যে আম ১২শ’ টাকা মণ বিক্রি করেছি, সেই আম আজ ২০০ টাকা মণ বিক্রি করতে হয়েছে।’ বাগানের লিজ ও শ্রমিকের খরচ উঠবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সাতক্ষীরা বড় বাজারের মানিক ফল ঘরের মালিক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার বাজার দখল করেছে সাতক্ষীরার কাঁচা আম। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার মণ কাঁচা আম কিনে ঢাকায় পাঠাই আমি। তবে ঝড়ে পড়া আম বিক্রি হয় না। এবার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৩২ মেট্রিক টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি করা হয়েছে। এবার রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে পাঁচশ’ কৃষককে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এই লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ৩ হাজার ৯৮৯টি বাগানে আম গাছ পরিচর্যা করা হচ্ছে। তবে ফণী’র কারণে আম ঝরে যাওয়ায় এবার রফতানিতে প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমজাদ হোসেন জানান, ‘ঘূর্ণিঝর ফণীর কারণে জেলার অনেক গাছের আম ঝরে পড়েছে। ঝরে পড়ে যাওয়া আম দিয়ে আচার তৈরি করে বা বিক্রি করে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।’

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও  জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন,‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ছয়শ’ কাঁচা ঘর-বাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলায় ২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি এবং শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘দুর্যোগ কবলিত মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৭শ’ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৩১৬ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা, ১১৭ বান টিন, গৃণ নির্মাণে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা ও ৪০ পিস শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক আরও জানান, কৃষি বিভাগের কাছে আমের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানতে চেয়েছি। সেটা জানার পর সরকারের কৃষি ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে দেবো।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status