|
আদালতকাণ্ডের পর ফেসবুকে পরীমনির বিতর্কিত পোস্ট
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() আদালতকাণ্ডের পর ফেসবুকে পরীমনির বিতর্কিত পোস্ট বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি। আদালতের কার্যক্রম শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কেউ ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে পরীমনির বিরুদ্ধে। একই সময়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরাও সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরীমনি ও তার নিরাপত্তাকর্মীদের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার কিছুক্ষণ পরই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মাত্র ‘দুটি শব্দ’ ব্যবহার করে একটি পোস্ট দেন পরীমনি। পোস্টটির ভাষা ছিল চরম আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক। যদিও কাকে বা কোন পক্ষকে উদ্দেশ্য করে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি অভিনেত্রী। তবে পোস্টের সময় ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে মনে করছেন, তার বিরুদ্ধে সমালোচনা করা ব্যক্তি বা পক্ষকে লক্ষ্য করেই এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। পোস্টটি প্রকাশের পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র এক ঘণ্টায় এতে প্রায় ১২ হাজার লাইক পড়ে। তবে মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ থাকায় অনুসারীরা সরাসরি পোস্টের নিচে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি। পরীমনির পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ব্যবহারকারী একজন জনপ্রিয় তারকার কাছ থেকে এমন অশালীন ভাষার ব্যবহার প্রত্যাশা করেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা বিরক্তি থাকলেও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে একজন পাবলিক ফিগারের দায়িত্বশীল ও সংযত থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে, পরীমনির ভক্তদের একটি অংশ তার আচরণকে পরিস্থিতিজনিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ এটিকে তার স্বভাবসুলভ স্পষ্টবাদিতা হিসেবেও সমর্থন করছেন। তবে সমর্থন ও সমালোচনার বাইরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার আচরণ এবং পরবর্তী ফেসবুক পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এনেছে তারকার সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। পরীমনির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) এ মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে উপস্থিত হতে না পারায় তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। তবে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান আবেদনটি নামঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরীমনির প্রকাশ্য আচরণ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন আইনি জটিলতা, কারামুক্তি ও আদালতকেন্দ্রিক ঘটনায় তার কিছু বক্তব্য, অঙ্গভঙ্গি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে হাতের তালুতে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক বার্তা লিখে ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের কারণে মানসিক চাপের কথা পরীমনি আগেও গণমাধ্যমে জানিয়েছেন। তবে সেই চাপের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার কিংবা সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। একদিকে আদালতের আইনি প্রক্রিয়া, অন্যদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংঘাত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক ভাষা। সব মিলিয়ে জামিনের স্বস্তি পাওয়ার দিনেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন পরীমনি। আইনি লড়াইয়ের বাইরে এবার তার আচরণ ও ভাষার ব্যবহারই হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
