|
মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধার প্রতিবাদ, তদন্তের দাবি
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধার প্রতিবাদ, তদন্তের দাবি শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পিরোজপুর শহরের শহীদ ওমর ফারুক সড়কে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব দাবি জানানো হয়। পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ব্যানারে এ সভার আয়োজন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির বাদলের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন মো. ফজলুল হক সেন্টু। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন নুর দিদা খালেদ রবি। বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বাতেন, আবদুল মান্নান দরানী, ফিরোজ রব্বানী, আকরাম খান, আবদুর রশিদ হাওলাদার, এস এম দুলাল, মশিউর রহমান, মাহবুবুর রহমান, জয়নাল আবেদীন ও নিত্যানন্দ রায়। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্রসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। সভায় উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বাতেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জহুরুল হকের উপস্থিতি। মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি থাকলেও তাঁর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় এবং দাফন নিয়ে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয় বলে সভায় মত দেন বক্তারা। সভায় মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক সেন্টু বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও ছয় হাজারের বেশি মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হয়েছেন। কে কখন গেজেটভুক্ত হয়েছেন, সেটিকে প্রশ্নের বিষয় করা উচিত নয়। কারও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা ও সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা বলে আলাদা কোনো শ্রেণি নেই। মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্তির আইন অনুযায়ী, যাঁরা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং যাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁরাও স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। তবে এ বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি করতে হবে। বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ রয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর পর একজন ব্যক্তির রাষ্ট্রীয় সম্মান ও দাফন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। মানিক পশারীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি শুধু একজন ব্যক্তির অসম্মান নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সামগ্রিক মর্যাদার প্রশ্নকেও সামনে এনেছে। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান মানিক পশারী। পরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানকালে ২৪ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন দুপুর একটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে তাঁর মরদেহ টুঙ্গিপাড়া থেকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনা হয়। এরপর তাঁর গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
