ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
লজ্জাজনক হারের পর নাইটক্লাব কেলেঙ্কারি
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 3 October, 2026, 10:12 AM

লজ্জাজনক হারের পর নাইটক্লাব কেলেঙ্কারি

লজ্জাজনক হারের পর নাইটক্লাব কেলেঙ্কারি

জাকার্তার বৃহস্পতিবারের রাত বাংলাদেশের ফুটবলে বড় ঝড় তুলল। মাঠে ৯-২ গোলের মর্মান্তিক হার, আর মাঠের বাইরে রাতের আঁধারে ছড়িয়ে পড়া ছবি, ভিডিও—যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল, রহস্য।

ম্যাচের পর গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দুটি ছবি, তাতে ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন ও মিডফিল্ডার সোহেল রানাকে দেখা যায় নারীদের সঙ্গে। ইন্দোনেশিয়ার আলানা নামে এক নারীর এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দুই ফুটবলারের পাশে ছিলেন তিন নারী। আরেকটিতে গানের তালে নাচছিলেন সাদ। পোস্টে ছিল জাকার্তার এক ক্লাবে দেখা হওয়ার কথা, আর ম্যাচ দেখার আমন্ত্রণের গল্প। ছবির পরিবেশ, পোস্টের ভাষা আর সময়ের যোগফল মিলে ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়তে দেরি হয়নি। সমর্থকরা ধরে নিলেন, হারের রাতেই নাইট ক্লাবে ছিলেন দুজন। কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠল তীব্র ভাবে।

পরদিন গল্পের মোড় ঘুরল। দুই ফুটবলার ছবিতে নারীদের সঙ্গে উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেননি। ফুটবলারদের দাবি, ছবিটা জাকার্তার নয়। মোহামেডানে সই করার পর জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগে অবসরে তারা নেপালে ঘুরতে গিয়েছিলেন, সেখানেই ক্লাবে ওই নারীর সঙ্গে পরিচয়। সোহেল জানালেন, ফিফার ম্যাচ বলে নিরাপত্তা ছিল কড়া, ম্যানেজারের অনুমতি ছাড়া হোটেলের বাইরে পা রাখার সুযোগই ছিল না। নাইট ক্লাবে যাওয়ার কথা তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। সাদ ততক্ষণে দেশের পথে।

শুক্রবার মুখ খুললেন আলানাও। এক্স-এ তিনি লিখলেন, ছবি ও ভিডিও দুই মাস আগে নেপালে তোলা, সেখানে দেখা হয়েছিল কিছু ভালো মনের, পেশাদার বন্ধুর সঙ্গে। ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জানালেন, ভ্রমণের মুহূর্ত তিনি দেরিতে পোস্ট করেন, কারণ অবস্থান গোপন রাখাই তার পছন্দ। তবু ধোঁয়াশা কাটেনি। কারণ তার আগের পোস্টে ছিল ভিন্ন সুর—বাংলাদেশের ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা ‘তাদের এইচ ক্লাবে’, ছিল ম্যাচ দেখার আমন্ত্রণও। সেই পোস্ট এখন মুছে ফেলা, একাধিক অ্যাকাউন্টে ছড়ানো ভিডিও সরানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে, না মানলে আইনি পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও আছে। দুই বক্তব্যের ফাঁকটুকু তাই এখনো বিস্তর। ছবি কবে, কোথায় তোলা, তা যাচাইয়ের কাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নয়। হোটেলের বিধিনিষেধ ছিল কি না, থাকলে মানা হয়েছিল কি না, তা বলার দায়িত্বও দল ব্যবস্থাপনার। পক্ষে-বিপক্ষে যত কথাই হোক, প্রমাণ ছাড়া রায় নয়, আবার জবাব ছাড়া নীরবতাও নয়।

এই ঝড়ের মধ্যেই মুখ খুলেছেন সাবেক তারকা আশরাফ উদ্দিন চুন্নু। ৪১ বছর আগে ঢাকায় ইন্দোনেশিয়াকে ২-১ গোলে হারানো ম্যাচে জয়সূচক গোলটি ছিল তার করা। কালবেলাকে আশরাফ উদ্দিন চুন্নু বলেছেন, ‘ছবিগুলো সত্যিই ম্যাচের পরের হলে প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা নেই আমার শব্দ ভান্ডারে।’ হারের ব্যাপারে সাবেক তারকার মূল্যায়ন আরও নির্মম, ‘গত ১৭ বছর যে প্রক্রিয়ায় ফুটবল চলেছে, এখনো একই তালে চলছে। যেখানে উন্নতির পথ এড়িয়ে বড় স্বপ্ন দেখানো হয়, সেখানে এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে!’ চুন্নুর আক্ষেপ আসলে একজনের নয়, একটি প্রজন্মের। যে প্রজন্ম মাঠে ঘাম ঝরিয়েছে, তারা আজ দেখছে স্বপ্নের ফেরিওয়ালারা ঘুরছে, অথচ ভিত নড়বড়ে। কোচের মুখেও শোনা গেছে নিরাশার সুর—আশা করি এটাই শেষ। কিন্তু আশায় তো ফুটবল চলে না, চলে পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা আর জবাবদিহিতায়।

মাঠ কাঁপানো আরেক তারকা হাসানুজ্জামান খান বাবলুও হতাশ ফুটবলের পারিপার্শ্বিক অবস্থায়, ‘আমাদের সময়ের ফুটবল ছিল অপেশাদার, আমরাও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় ব্যবধানে হেরেছি। কিন্তু মাঠের বাইরে নিজেদের এমনভাবে সুশৃঙ্খল রাখার চেষ্টা ছিল, যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা দেখছি, তা যদি সত্যি হয়; ব্যাপারটা ন্যক্কারজনক!’ যোগ করলেন, ‘এখন ফুটবল তো পেশাদার। তাই কমিটমেন্টের প্রশ্নটাও বড়। যেই চিত্রটা দেখছি, এটা সত্যি হলে আমি শুধু ফুটবলারদের দোষ দেব না। দায়টা ফুটবল ফেডারেশনেরও। খেলাটিতে নেতিবাচক কিছু দেখলে সাবেক ফুটবলার হিসেবে ব্যথিত হই, লজ্জিত হই।’

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status