|
জাপানের কর্মবাজারে দক্ষ কর্মী ও গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার তৈরিতে ড্যাফোডিলের নতুন উদ্যোগ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() জাপানের কর্মবাজারে দক্ষ কর্মী ও গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার তৈরিতে ড্যাফোডিলের নতুন উদ্যোগ এ সময় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তার অংশগ্রহণে ‘জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ: বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পথ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। পরে ড্যাফোডিল গ্রুপ ও ডিআইইউর শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাপান প্ল্যাটফর্ম ফর মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স টুওয়ার্ডস রেসপনসিবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সোসাইটি (জেপি-মারাই)-এর বোর্ড সদস্য কেনিচি শিশিদো এবং জেপি-মারাই-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শিনিচি ওকুবো। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল এবং ড্যাফোডিল গ্রুপের গ্রুপ সিইও ড. মোহাম্মদ নুরউজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। মূল সেশন পরিচালনা করেন কেনিচি শিশিদো। তিনি জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ, ক্যারিয়ার গড়ার বিভিন্ন পথ, কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানে দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। সমাপনী বক্তব্যে ড্যাফোডিল গ্রুপের গ্রুপ সিইও ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, জাপানের জন্য বাংলাদেশ দক্ষ ও পেশাদার জনশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। জাপানের প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি, আর বাংলাদেশের রয়েছে বিপুলসংখ্যক মেধাবী ও তরুণ জনগোষ্ঠী। আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো জাপানি ভাষা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সাংস্কৃতিক ও কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতি, দায়িত্বশীল নিয়োগ এবং প্রকৃত নিয়োগদাতার চাহিদার সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে এই দুইয়ের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করা। জাপানমুখী জনশক্তি উন্নয়নে ড্যাফোডিলের ইতোমধ্যে অভিজ্ঞতা রয়েছে। ড্যাফোডিলের গ্লোবাল রিক্রুটিং এজেন্সি (জিআরএ) জাপানের কারিগরি ইন্টার্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি (টিআইটিপি) এবং নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী (এসএসডবিøউ) কর্মসূচির আওতায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য বিষয়ে যোগ্য গ্র্যাজুয়েটদের জন্য জাপানে পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার নতুন পথ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে জাপানের বিভিন্ন পর্যায়ের জনশক্তির চাহিদা পূরণে একটি সমন্বিত দক্ষ জনশক্তির ধারাবাহিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে ড্যাফোডিলের। এতে দক্ষ ও কারিগরি কর্মীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি পেশাজীবীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় প্রতিভা শনাক্তকরণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা, কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক পরিচিতি, কর্মক্ষেত্রের পস্তুতি, নিয়োগদাতার সঙ্গে যোগাযোগ, দায়িত্বশীল নিয়োগ এবং চাকরিতে যোগদানের পর ক্যারিয়ার সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত উদ্যোগের কাঠামোতে জাপানি নিয়োগদাতার চাহিদা অনুযায়ী প্রতিভা শনাক্তকরণ, জাপানি ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি, কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, নিয়োগদাতার সঙ্গে যোগাযোগ, দায়িত্বশীল নিয়োগ, জাপানে কর্মসংস্থান এবং পরবর্তী ক্যারিয়ার উন্নয়নের বিষয়গুলোকে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শুধু বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি নয়, বরং বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি টেকসই দক্ষ জনশক্তির সেতুবন্ধন তৈরিতে অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে ড্যাফোডিলের। সেমিনারের পর জাপানি প্রতিনিধিদল ড্যাফোডিল গ্রুপ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ড্যাফোডিল গ্রুপের গ্রুপ সিইও, রেজিস্ট্রারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে জাপানের কর্মবাজারের সঙ্গে আরও গভীর সহযোগিতা, গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তি, জাপানি ভাষা শিক্ষা, শিল্পখাতভিত্তিক দক্ষতা, সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি, দায়িত্বশীল নিয়োগ এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষভাবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় পস্তুতি সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েটদের জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি ‘জাপান গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার কর্মসংস্থান পথ’ গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এক্ষেত্রে একাডেমিক শিক্ষা, ভাষা ও সাংস্কৃতিক পস্তুতি, কর্মসংস্থানযোগ্যতা উন্নয়ন এবং ক্যারিয়ার সহায়তার মাধ্যমে ট্যালেন্ট পুল তৈরি করার পাশাপাশি জাপানের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়োগদাতা সংযোগ, কর্মবাজারের চাহিদা শনাক্তকরণ এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থানের পথ তৈরিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে শুধু বিদেশগামী কর্মীর উৎস হিসেবে নয়, বরং দক্ষ, যোগ্য ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক মানবসম্পদের উৎস হিসেবে গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, জাপানকেন্দ্রিক উদ্যোগ এবং নিয়োগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাপানের কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য বাংলাদেশি তরুণদের পস্তুত করতে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় ড্যাফোডিল। সফরকালে জাপানি প্রতিনিধিদল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, জাপান স্টাডি সেন্টার পরিদর্শন করেন, ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। জাপানের কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ ও ক্রমবর্ধমান দক্ষ জনশক্তিকে যুক্ত করার একটি টেকসই মডেল গড়ে তুলতে এই সফর ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও ধারাবাহিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
