|
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: ‘কিশোর গ্যাং’ লিডার কে এই তুহিন?
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: ‘কিশোর গ্যাং’ লিডার কে এই তুহিন? তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে শনিবার দুপুরে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহরিয়া আনাস ও মো. ফাহিম নামে আরও দুজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও উদ্ধার হওয়া আলামত যাচাই করে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে তিনজনেরই সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তুহিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর-সানন্দা এলাকার নুরে আলমের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় তুহিনের প্রভাব রয়েছে। মোটরসাইকেল চুরি, টাকা ছিনিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তুহিন ও ফাহিম পৃথক দুটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমেরও চলাফেরা ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তুহিনের সঙ্গে নীরব নামে আরও একজন ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতেন। তারা দলবদ্ধভাবে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়াতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তুহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে ক্রেতা টাকা নিয়ে এলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এক বছর আগে মোটরসাইকেল চুরির দায়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন হয়েছিল। পরে সেটি জিডি হিসেবে গ্রহণ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ‘প্রভাবশালী’ তুহিন তুহিনের বাবা দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। বর্তমানে তিনি দেশে রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিবারের সদস্যরা তুহিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন। তারপরও ছেলেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেননি। স্থানীয়দের কয়েকজন তুহিনকে ‘প্রভাবশালী’ বলে দাবি করেছেন। তবে তার এই প্রভাবের উৎস কী—এ বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি পার পেয়ে যেতেন। এ কারণে এলাকার অনেক কিশোর তার সঙ্গে চলাফেরা করত। তবে তুহিনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অতীতের অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। যেভাবে নিখোঁজ অপ্রতিম পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শনিবার দুপুর ১টার দিকে সানন্দা পাহাড়ি এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে রাতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও লেখক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে। যেখানে মিলল অপ্রতিমের মরদেহ সানন্দা পাহাড়ি এলাকার যেখান থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয় সেই জায়গাটি তুহিনের বাবা নুরে আলমের মালিকানাধীন বলে দাবি স্থানীয়দের। সেখানে তাদের একটি ঘরও রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, অপ্রতিমকে ওই এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল তুহিন। স্থানীয়রা জানান, সানন্দা পাহাড়ি এলাকাটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার এবং অপ্রতিমের বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
