ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
রাঙামাটিতে বাবাকে হত্যা করে রক্তপান, অতঃপর যা যা ঘটলো
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 15 September, 2026, 5:40 PM

রাঙামাটিতে বাবাকে হত্যা করে রক্তপান, অতঃপর যা যা ঘটলো

রাঙামাটিতে বাবাকে হত্যা করে রক্তপান, অতঃপর যা যা ঘটলো

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে শান্তিলাল চাকমাকে জবাই করে হত্যা করে তার রক্ত পান করার ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন; নিহতের ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমা। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জামিনে পলাতক মূল হত্যাকারী আলোময় চাকমা পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ এর সক্রিয় সদস্য বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটির জেলা ও দায়রা জজ মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়ে এটিই প্রথম রায়। রায় ঘোষণার সময় আসামি সোহেল চাকমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে ফাঁসির পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আইন অনুযায়ী রায়ের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।

রাঙামাটির জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি) সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোহেল চাকমার আইনজীবি জানান, তারা আসামির পরিবারের সাথে কথা বলে উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

মলার নথি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলোময় ও সোহেল চাকমা ভিকটিম শান্তিলাল চাকমাকে তার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি রাস্তায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে আটকে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এসময় হত্যাকারি আলোময় চাকমা জবাইকৃত ভিকটিমের রক্ত পান করে বলেও জবানবন্দিতে জানায়। এরপর লাশটি কাঠের সঙ্গে বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রায় নয় দিন পর কাচালং নদীর লাইল্যাগোনা এলাকায় শান্তিলালের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বিনয় শঙ্কর চাকমা সাজেক থানায় মামলা করেন। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর তদন্ত শেষে রাঙ্গামাটি থানার এসআই সফিকুল ইসলাম দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, হত্যাকাণ্ডে দুই আসামিরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আলোময় চাকমা ভিকটিম শান্তিলালকে ঘর থেকে বের করে তার গলায় গামছা পেঁচান এবং ভিকটিমের ঔরসজাত ছোট ছেলে সোহেল চাকমা গামছার অপর প্রান্ত ধরে তাকে সহযোগিতা করেন। ফলে একজনকে অপরজনের তুলনায় লঘুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ নেই।

আদালত আরও বলেন, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। হত্যাকাণ্ডটিকে আদালত অত্যন্ত নৃশংস ও নিষ্ঠুর হিসেবে উল্লেখ করেন। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণে হত্যার পর ভিকটিমের রক্ত পান করার অভিযোগও উঠে আসে।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দিসহ সবকিছু রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য আদালত এ রায় দিয়েছেন। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে এই রায় সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই মামলা সর্বমোট ১৯জন সাক্ষী আসামীদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status