ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
চলতি সপ্তাহেই শেষ ডাকসুর মেয়াদ, পরের নির্বাচন কবে?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 7 September, 2026, 10:55 AM

চলতি সপ্তাহেই শেষ ডাকসুর মেয়াদ, পরের নির্বাচন কবে?

চলতি সপ্তাহেই শেষ ডাকসুর মেয়াদ, পরের নির্বাচন কবে?

আর মাত্র পাঁচ দিন পর শেষ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ। নিয়ম অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের প্রথম দিন পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি নেই। ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কেউ বলছেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। আবার কারও মতে, নির্বাচন আয়োজন মানেই বাড়তি ঝামেলা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন করে সেই ঝামেলা নিতে চাইবে না।

এবার ডাকসু নির্বাচনের জন্য বাজেটও বরাদ্দ রাখা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যমতে, এবারের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ডাকসু নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এমনকি ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্তির কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। এ কারণে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে ডাকসুর বর্তমান নেতারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে যেকোনও মূল্যে নির্বাচন আদায় করে নেওয়া হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। ডাকসুর আইন অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও বর্তমান কমিটি মেয়াদ বাড়াতে অনিচ্ছুক।

যেকোনও মূল্যে নির্বাচন চান ডাকসুর জিএস

ডাকসুর বর্তমান জিএস এস এম ফরহাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডাকসুর সংবিধান অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর সুযোগ আছে। তবে তারা মেয়াদ না বাড়িয়ে যেকোনও মূল্যে নির্বাচন আদায় করবেন।

তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। আমরা ইসি মিটিংয়ে বলেছি, সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ আমরা মেয়াদ শেষ করতে চাই।’

এস এম ফরহাদ বলেন, ‘যেহেতু গত বছরের ১২ তারিখ আমাদের কাজ শুরু হয়েছে, তো আগামী ১২ তারিখটা বড় করে পালন করতে চাই, যেখানে অন্যান্য হলের সব প্রতিনিধিরা থাকবে, আমরা থাকবো। সেখানে আমরা বলবো যে আমাদের দায়িত্ব শেষ। এখন ভিসি স্যার তফসিল দেবেন, ওনাদের তফসিলের প্রস্তুতি থাকবে। এটা আমরা ক্লিয়ার করেছি।’

ডাকসুর সংবিধানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কনস্টিটিউশনে বলা আছে তফসিল দেরি হলে মেয়াদ তিন মাস পর্যন্ত বাড়তে পারবে। আমরা বলছি, স্যার, আমরা এক ঘণ্টাও বাড়াতে চাই না। আমরা সেদিনই ঘোষণা দিতে চাই যে তফসিলের ঘোষণাটা আপনি প্রকাশ করবেন। ভিসি স্যার আশ্বস্ত করেছেন যে ওনারা প্রস্তুতি নেবেন। তো আমরা এইটুকু এখনও বিশ্বাস রাখতে চাই সেদিনই ওনারা তফসিল দেবেন এবং আমাদের দায়িত্ব শেষ হবে।’

বাজেট হয়নি, তফসিল নিয়েও শঙ্কা

২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। তবে এবার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ কারণে অনেকে বলছেন, বাজেটের অজুহাতে তফসিল ঘোষণা থেকে পিছিয়ে যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আবার অনেকের মতে, এটি বড় কোনো সমস্যা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে ঘাটতি বাজেট থেকে নির্বাচনের ব্যয় মেটানো সম্ভব।

ডাকসুর বাজেট ও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা ডাকসু নির্বাচন যেকোনো মূল্যে আদায় করে নেব। এবং পরবর্তীতে যাতে প্রতিবছর ঠিকঠাকভাবে হয়, সেই পথ সুগম করা। আর বাজেট এটা কোনো ইস্যুই না। ওনারা আবেদন করলেই এটার বাজেট পেয়ে যাবেন। আপনি আবেদনই করবেন না, এটার জন্য আর বাজেট নাই এটা বললে তো তার মানে আপনি দায়িত্ব পালন করেন নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিভার্সিটি যে প্রপোজালটা দিয়েছিল এর আগে, সেখানে ডাকসুর বাজেট রাখে নাই। তো ওনাকে জিজ্ঞেস করছিলাম তাহলে সমাধান কী? উনি বলছেন, “আমরা ইউজিসিকে এপ্রোচ করব, আবেদন দেব, তাহলে সেই অনুযায়ী ওনারা রেসপন্স করলে আমরা ফান্ড পাব।” এটা হচ্ছে ওনাদের রিপ্লাই। তো আমরা ইতিবাচক ধারণা করতে চাই এখনও।’

ডাকসু নির্বাচনের বাজেটের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের জন্য কোনো বাজেট রাখা হয়নি। যদি নির্বাচন হয়, সেটা ঘাটতি বাজেট থেকে হবে।’

পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে যা বলছে প্রশাসন

২০২৫ সালের আগে ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে। তার আগের নির্বাচনের সঙ্গে সেই নির্বাচনের ব্যবধান ছিল ২৯ বছর। তাই এবার সময়মতো ডাকসু নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ডাকসু নির্বাচন যথাসময়ে করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই আমাদের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যে শীর্ষ চারজন আছি, তারা বর্তমান ডাকসু কমিটির সঙ্গে বসেছি। একইসঙ্গে প্রত্যেক হলের প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে বসেছি। তাদেরকে হলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দিতে বলেছি। আমরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বসবো। তাদের সঙ্গে বসে তারা কী চায়, কোন কোন বিষয়গুলো নতুন করে যুক্ত করা দরকার, তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো। তারপর সবকিছু বিবেচনা করে ডাকসু নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হবে।’

কবে নাগাদ ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে, তা এখনও অনিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উপ-উপাচার্য।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status