|
পাইকগাছা হাসপাতালে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক সংকটে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী
শেখ সেকেন্দার আলী,পাইকগাছা
|
![]() পাইকগাছা হাসপাতালে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক সংকটে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী হাসপাতালে রোগীর চাপের বিপরীতে জরুরি অস্ত্রোপচার, অ্যানেস্থেশিয়া ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা কতটা পর্যাপ্ত—তা নিয়েই এখন সামনে আসছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে প্রয়োজনের সময়ে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সেবা সীমিত থাকলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন প্রসূতি ও জরুরি অস্ত্রোপচারের রোগীরা। পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। এর পাশাপাশি ভৌগোলিক নৈকট্য ও যোগাযোগ সুবিধার কারণে আশাশুনি, তালা ও কয়রার বিভিন্ন এলাকার রোগীরাও এখানে সেবা নেন। ফলে হাসপাতালটির ওপর বাস্তব রোগীর চাপ স্থানীয় জনসংখ্যার হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। এই বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, ওষুধ, জরুরি সেবা এবং অস্ত্রোপচারসংশ্লিষ্ট জনবল। বিশেষ করে জরুরি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একজন অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসককে একাধিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে হলে পাইকগাছায় প্রয়োজনের সময়ে এই সেবা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে—সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) ডা. জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি সপ্তাহে একদিন শনিবার পাইকগাছায় দায়িত্ব পালন করছেন। যার মধ্যে রয়েছে, শনিবার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করেন। শুক্রবার তাঁর সাপ্তাহিক ছুটি। ডা. জহিরুল ইসলামের ভাষ্য, তিন উপজেলায় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল আদেশের ভিত্তিতেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি দিঘলিয়ায় এবং সেখান থেকেই তিনি তিন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আরো বলেন,তাঁর এই দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রশ্ন তোলার বিষয় নয়। বরং প্রশ্ন হচ্ছে—একজন অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসককে তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যেও পাইকগাছার জরুরি অস্ত্রোপচার সেবা কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে? প্রসূতি রোগীর ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রসবজনিত জটিলতা দেখা দিলে কখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে, তা সবসময় আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। একইভাবে দুর্ঘটনায় আহত রোগী কিংবা বিভিন্ন জটিলতায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীর ক্ষেত্রেও দ্রুত সিদ্ধান্ত ও চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা না গেলে রোগীকে অন্যত্র নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। পাইকগাছার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন কিংবা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে আসা রোগীর জন্য তখন নতুন করে পরিবহন, সময় ও অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়। জরুরি মুহূর্তে এই বাড়তি ভোগান্তি রোগী ও স্বজনদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনের সময়ে অস্ত্রোপচার সেবা না পাওয়ায় অধিকাংশ রোগীকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রসূতি ও অস্ত্রোপচারের রোগীদের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও অনেক সময় সীমিত থাকে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ-এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুলনায় জেলা পর্যায়ের একটি সভায় আছেন বলে জানান। মুঠোফোনে খুদেবার্তার মাধ্যমে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
