ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬ ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
এসএসসির ফলে ধস, কারণ কী?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 11 August, 2026, 10:34 AM

এসএসসির ফলে ধস, কারণ কী?

এসএসসির ফলে ধস, কারণ কী?

প্রায় দেড় যুগের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেল এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায়।

এ ফলকে কেউ কেউ বিপর্যয় বললেও সরকার বা শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখছেন ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে।

গত দেড় যুগের ফলকে ‘ফুলিয়ে-ফাপিয়ে’ দেখানো হয়েছে দাবি করে সরকারের ভাষ্য, এবার ‘মন খুলে’ নম্বর দেওয়ার প্রবণতা ছিল না।


তবে ইংরেজি ও গণিতের মতো আবশ্যিক বিষয়ে খারাপ করাকেও পাসের হার কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে সামনে আনছেন তারা।

অন্যদিকে শিক্ষকরা মনে করছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বদলে যাওয়া পরিস্থিতি, নবম ও দশম শ্রেণিতে আলাদা শিক্ষাক্রমে পাঠদান, পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো এবং ডিভাইস আসক্তির মতো বিষয় এবার পাসের হার কমে যাওয়ার পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

‘অযাচিত’ নম্বর না দেওয়ার যে ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রী দিয়েছিলেন, তার প্রভাবও ফলে কিছুটা পড়েছে বলে মনে করছেন কোনো কোনো শিক্ষক।


এবার পরীক্ষায় বসেছিলেন মাধ্যমিকের সোয়া ১৮ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেন ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

স্কুলের গণ্ডি পেরনো এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন, যা পাস করা শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।

গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। আর গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট।

গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা ছিল ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এর আগে পাসের হার ৬২ শতাংশের নিচে নামে ২০০৭ সালে। সেবার গড় পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

দেশে মাধ্যমিক পরীক্ষায় গড় পাসের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ২০২১ সালে; ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ।


এবারের পরীক্ষায় পাসের হারে সবচেয়ে কম মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে; ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি পাস করেছে ঢাকা বোর্ডে; ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

আর জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বরিশাল বোর্ড। সেখানে ২ হাজার ৭৭৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ঢাকা বোর্ডে এ সংখ্যা ৩৩ হাজার ২৫৩।

ফল স্বাভাবিক, বলছে শিক্ষা বোর্ডগুলো

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে দেখছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সোমবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবারের পরীক্ষার ফলকে আমরা স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছি।

“পাসের হার বিগত বছরগুলোর চেয়ে কম হওয়ায় অনেকে মনে করছেন ফল খারাপ হয়েছে। তবে এমনটি নয়। এবারের পরীক্ষায় উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “যেহেতু আগের সরকার একটু উল্টাপাল্টা মার্কিং করছে; পাসের হার বাড়িয়ে দেখিয়েছে; তাই এমনটি মনে হতে পারে। তবে আমার মনে হয়, এবারের ফল ঠিক আছে। আশা করছি পাসের এ হার আগামী বছরগুলোতেও বহাল থাকবে।”

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ‘খারাপ হয়নি’ বলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুলক হক মিলন।

তার ভাষায়, “সুন্দর ফল হয়েছে।”

‘এবার যে যে নম্বর পেয়েছে, সেটাই দেওয়া হয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের ভাষ্য হলো, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল তৈরি করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের ‘প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের’ ভিত্তিতে।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ ৫ বাড়ানোর যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।”

গণিত ও ইংরেজি অকৃতকার্য হওয়ায় পাসের হার কম

এবছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গণিতে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭১ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং গণিতে ৮৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং গণিতে ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ইংরেজিতে ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং গণিতে ৮০ দশমিক ০৫ শতাংশ; রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৪ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং গণিতে ৭৭ দশমিক ১৭ শতাংশ পাস করেছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৯ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং গণিতে ৭৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ; দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং গণিতে ৭১ দশমিক ০৫ শতাংশ; সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং গণিতে ৭৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবংময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজি ৬৬ দশমিত ৬৪ শতাংশ এবং গণিতে ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

ইংরেজিতে ৭৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং গণিতে ৬৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ পাস করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে ইংরেজিতে ৯৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং গণিতে ৭০ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামের মতে এবারের পরীক্ষায় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ফেল বেশি থাকায় এবার পাসের হার কিছুটা কমেছে।

পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের প্রভাব?

চলতি বছর যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসেছেন, তারা ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে পড়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণয়ন করা নতুন শিক্ষাক্রমে। কিন্তু সে বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর মাধ্যমিক পর্যায়ে ওই শিক্ষাক্রম বাতিল করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

পরে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে ২০২৫ সালে ওই শিক্ষার্থীদের দশম শ্রেণিতে নতুন বই দেওয়া হয়।

শিক্ষাক্রমে এ পরিবর্তনকে এবারের ফল কিছুটা খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শাহীনা কবীর।

তিনি বলেন, “শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের প্রভাব এবারের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে থাকবেই। কারণ তারা নবম শ্রেণিতে একটা বই পড়ল, আবার দশম শ্রেণিতে আরেকটা বই পড়ল।”

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের প্রভাব ফলে তেমন একটা পড়েনি বলে মনে করছেন ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র চৌধুরী।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের ফলে বইয়ের মলাট পরিবর্তন হয়েছিল। কিন্তু বই মূলত ছিল একই। শিক্ষার্থীরা যদি ঠিকভাবে পড়াশোনা করত, তাহলে ফলে তার প্রভাব পড়ত। ফল বাস্তবতার নিরিখেই হয়েছে।”

পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের প্রভাব এসএসসির ফলে দেখছেন না ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানও।

তার যুক্তি, শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ পড়েছে, এমন অভিযোগ তারা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পাননি।

গণঅভ্যুত্থানের রেশ আছে?

গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার প্রভাবে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল কিছুটা খারাপ হয়েছে বলে মনে করছেন প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর স্কুলগুলোতে লেখাপড়ার পরিবেশ নেই। ২০২৪ সালের অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে আমরা দেখলাম, স্কুলগুলোতে কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে শিক্ষকদের ওপর মব চলাচ্ছেন।

“আমরা নিজেরাও তো এরপর থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করতে পারছি না। তাই স্কুলগুলোতে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরে আসছে না। যার প্রভাব কিছুটা এবারের ফলে আমরা দেখলাম।”

ঢাকার একটি স্কুলের একজন প্রধান শিক্ষকও একই কারণ দেখছেন ফল কিছুটা খারাপ হওয়ার পেছনে।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক স্বাভাবিক নেই।

“শিক্ষার্থীদের কথাই শোনানো যায় না। একটু কড়া কথা বললেও তাদের বেয়াদবির শিকার হওয়ার ভয়ে থাকেন শিক্ষকরা। এমন বাস্তবতায় ফলের এই হাল।”

কেন্দ্রে সিসিটিভি, কড়াকড়ির প্রভাব ফলে?

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের কারণে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হয় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। প্রথমবারের মতো সব কেন্দ্রকে আনা হয় সিসি ক্যামেরার আওতায়। কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে যুক্ত ছিল ক্যামেরা।

দুলাল চন্দ্র চৌধুরী বলেন, “এখন আর আগের মতো পাবলিক পরীক্ষায় নকল হয় না। তবে এবার সরকার পরীক্ষার আগেই কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ঘোষণা দিল। এতে হয়ত যে পরীক্ষার্থী দুইটি ব তিনটি এমসিকিউ বন্ধুর কাছ দেখে উত্তর করতে পারত, সেটা করতে পারেনি বা সাহস পায়নি। এর কিছুটা প্রভাব ফলের ওপর থাকতে পারে।”

পাসের হার কমে যাওয়ার পেছনে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করেন রাজধানীর সিদ্বেশরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “গতবারও হয়ত পরীক্ষা নেওয়া বা খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা ছিল। কিন্তু এবার যেহেতু শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, অযাচিত নম্বর দেওয়া যাবে না এবং পরীক্ষা যথাযথভাবে নেওয়া উচিত; সেজন্য পাসের হার বিভিন্ন জায়গায় কমেছে বলে আমি মনে করি।”

শিক্ষাবিদরা যা বলছেন

চলতি বছরের ফলকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এই ফল এক অর্থে প্রকৃত রেজাল্ট। বাস্তব প্রেক্ষাপটের আলোকে, অনেকটাই বাস্তব রেজাল্ট। কারণ আগে লেখাপড়া ধ্বংস করেছিল, ছেলেমেয়েরা পড়ে নাই। পড়ার কালচার থেকে সরে আসছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মব চলেছে, তাতে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। প্রকৃত পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা বাদে বড় অংশ পড়া থেকে সরে গেছে।

“এই সরকার চেষ্টা করছে। পরীক্ষার জায়গাটাকে যেমন পরীক্ষাবান্ধব করতে হবে, তেমনি শিক্ষাটাকেও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে হবে। এখন নিয়ম-কানুনের মধ্যে আনতে গেলেই প্রতিবাদ আসে। পড়াশোনা যে অধিকাংশ ছেলেমেয়ে করে নাই, তারই একটা স্বাভাবিক চিত্র ফুটে উঠেছে ফলাফলে।”

তিনি মনে করছেন, “শিক্ষায় শৃঙ্খলা এনে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে সমাজে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। সেজন্য পরিবারের অনুশাসন বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের পরিবারের অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে; শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে; পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

“শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের প্রতি আরো বেশি যত্নশীল হতে হবে। যেসব বিষয়ে তারা দুর্বল, ফল খারাপ করে, সেসব বিষয়ে নজর দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা খুঁজে বের করে অতিরিক্ত শিখন দিতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের স্কুল অব সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের শিক্ষক সাঈদ ইফতেখার আহমেদ মনে করেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত উন্নয়নের মাধ্যমেই প্রকৃত শিক্ষা বা বাস্তবিক অর্থে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা দেখছি, যেসব স্কুলে ফল ভালো হচ্ছে, সেগুলো শহরকেন্দ্রিক। খারাপ ফল করা অনেক প্রতিষ্ঠান প্রত্যন্ত অঞ্চলের। খারাপ ফলের কারণে ওই স্কুলগুলো সমাজে ‘খারাপ স্কুল’ হিসাবে আখ্যায়িত হয়। এ ক্ষেত্রে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতা থাকে। তাই একটু কম সচেতন, একটু অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের ঠাঁই হয় ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

“এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যেও আন্তরিকতা কম, হয়ত মানও খুব ভালো না। আবার শিক্ষার্থীদেরও চেষ্টাটা কম দেখা যায়। এসব বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে সামাজিকভাবে। প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী— সার্বিকভাবে সব অংশের মানোন্নয়ন ছাড়া ‘গাল ভরা বুলি’ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারবেন না।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status