|
চরভদ্রাসনে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নৌযাত্রা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() চরভদ্রাসনে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নৌযাত্রা স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে খাস কালেকশনের সময় স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু চলতি বছর ঘাটটি ইজারা দেওয়ার পর অধিকাংশ যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নদী পারাপার করতে দেখা যাচ্ছে। বুধবার সরেজমিনে গোপালপুর ও মৈনট ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রবল বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও খোলা স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার চলছে। অনেক ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। ১৪ জন ধারণক্ষমতার স্পিডবোটে ১৯ জন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। শুধু স্পিডবোট নয়, একই নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে। পর্যাপ্ত লাইফ বয়া ছাড়াই অর্ধঘণ্টা পরপর শত শত যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই পদ্মা নদী পারাপার করছেন সাধারণ মানুষ। যাত্রী আরমান শেখ (৪৫) বলেন, “স্পিডবোটে ওঠার পর কয়েকবার লাইফ জ্যাকেট চেয়েছি, কিন্তু চালক কোনো গুরুত্ব দেননি।” স্পিডবোট চালক হারুন মোল্যা বলেন, “লাইফ জ্যাকেট স্পিডবোটেই রাখা আছে। প্রয়োজন হলে বের করা হবে।” ঘাটের ইজারাদার বাবুল শিকদার বলেন, “প্রত্যেকটি স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট রয়েছে। যাত্রীরা চাইলে ব্যবহার করতে পারেন।” এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বদলিজনিত কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে গোপালপুর ও মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার ঘাট ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্বে ঘাটটি ইজারা দেওয়া হলেও চলতি বছর মাত্র ৭০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইজারা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা ও স্বচ্ছতা ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন। স্থানীয়দের মতে, নিরাপত্তা বিধিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া নৌযান চলাচল অব্যাহত থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
