ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৬ জুলাই ২০২৬ ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির যে ৪ জ্যেষ্ঠ নেতা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 26 July, 2026, 12:21 PM

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির যে ৪ জ্যেষ্ঠ নেতা

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির যে ৪ জ্যেষ্ঠ নেতা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। এরই মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, আলোচনায় থাকা সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা বলা হলেও মূল সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আলোচনায় থাকা চার জ্যেষ্ঠ নেতা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান এবং ড. আবদুল মঈন খান।

বিএনপির একটি সূত্র বলছে, আলোচনায় থাকা চার নেতার মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তারা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সক্রিয় সদস্য। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তারা আর দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবেন না। এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। দল ও দলের বাইরের অনেকে মনে করেন, এখন পর্যন্ত তিনিই এ পদের সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবেও পরিচিত।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। দলটির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ এবং বিভিন্ন সময়ে দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ড. আবদুল মঈন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে তিনিও অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। এর আগে তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। বয়োজ্যেষ্ঠ এ নেতা সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে দল ও দলের বাইরে পরিচিত। তিনিও বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছেন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি বর্তমানে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির সমন্বয়কের দায়িত্বেও ছিলেন।

এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্পিকারের পদ শূন্য হবে। সে ক্ষেত্রে ওই পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান আসতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "নতুন রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ হবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে। সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন মেনে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

অন্যদিকে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না।

এর আগে ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বঙ্গভবনে অফিস করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, থাকবেন স্পিকারের বাসভবনে

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার দাপ্তরিক কার্যক্রম বঙ্গভবন থেকে পরিচালনা করবেন। তবে সরকারি আবাসস্থল হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই থাকবেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বার্তায় জানানো হয়, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুক্রবার বিকেল থেকেই জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অনুযায়ী এ নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে।

যেভাবে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, তার বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status