|
গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, চালকদের ক্ষোভ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, চালকদের ক্ষোভ রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। রাজধানীর হাতিরঝিল-বাড্ডা সংলগ্ন জামান সিএনজি স্টেশনে গত কয়েক দিনের মতো শনিবারও গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ ছিল। মাঝে মধ্যে গ্যাস এলে অপেক্ষমাণ কয়েকটি গাড়িতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। বাকি সময় কখন গ্যাস আসবে, সেই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে চালকদের। মূল সড়কের পাশে হওয়ায় স্টেশনের সামনে গাড়ি রাখতে দিচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশ। ফলে চালকদের হাতিরঝিলের ভেতরে কিংবা আশপাশের গলিতে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় গাড়ি চালিয়ে অন্যত্রও যেতে পারছেন না তারা। বাধ্য হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনেই অপেক্ষা করছেন। স্টেশনটির সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যাই বেশি। কাওসার নামের এক সিএনজিচালক বলেন, ‘শনিবার ভোর থেকে অপেক্ষা করছি। এখন সকাল সাড়ে ১০টা বাজে, গ্যাস পাওয়ার কোনও খবর নেই। কখন আসবে সেটাও কেউ বলতে পারছে না। গাড়িতে গ্যাস নেই, তাই অন্য কোথাও যেতে পারছি না। যতক্ষণই লাগুক, এখান থেকেই গ্যাস নিতে হবে।’ মধ্য বাড্ডার মা সিএনজি স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে চালকরা গ্যাসের অপেক্ষা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর প্রায় সব সিএনজি স্টেশনেই একই অবস্থা। গ্যাস এলে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় ঘণ্টা সরবরাহ থাকে, এরপর আবার বন্ধ হয়ে যায়। ভাড়ায় চালিত সিএনজি ও প্রাইভেট গাড়ির চালকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের পরিবারে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পর্যাপ্ত ট্রিপ দিতে না পারায় আয় কমে গেছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধানের দাবি জানান তারা। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিবহনেও। রাস্তায় সিএনজির সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেড়েছে ভাড়া। বনশ্রী থেকে পান্থপথগামী এক যাত্রী বলেন, বনশ্রী থেকে আগে সিএনজিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া লাগলেও এখন ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। কখনও কখনও ৩৫০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। চালকদের ভাষ্য, গ্যাস পেতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার গ্যাসের চাপ কম থাকায় অল্প পরিমাণ গ্যাস ওঠে, যা এক-দুইটি ট্রিপের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনের মতো বাসাবাড়িতেও চলছে গ্যাসের সংকট। গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছেন না গৃহিণীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। আবার কেউ কেউ গ্যাসের চাপ বাড়ানোর মেশিন কিনছেন। রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা কানিজ ফাতিমা বলেন, ‘দিন-রাত কোনও সময়ই ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যায় না। যে পরিমাণ গ্যাস আসে, তা দিয়ে কিছু গরম করাও অসম্ভব।’ তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে তারা ইলেকট্রিক চুলা কিনেছেন। এখন সেই চুলাতেই রান্না করতে হচ্ছে। তবে ইলেকট্রিক চুলায় সব ধরনের রান্না করা যায় না। একই এলাকার আফরোজা বেগম বলেন, ‘গ্যাসের ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। কোনও রান্নাবান্নাই করা যাচ্ছে না। সকালের নাস্তা হোটেল থেকে আনতে হচ্ছে। দুপুরে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতে হয়। গ্যাস দিয়ে বাসায় রান্না করার কোনও উপায় নেই।’ সোহেল নামের এক ব্যবসায়ী জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ইলেকট্রিক চুলা ও গ্যাসের প্রেসার বাড়ানোর মেশিনের চাহিদা বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে গ্যাস না পাওয়ায় ক্রেতারা এগুলো কিনছেন।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর, ধানমন্ডি থেকে শুরু করে পুরান ঢাকা; রাজধানীর প্রায় সব এলাকাতেই বাসাবাড়িতে গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। এদিকে এলএনজির ভাসমান টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। সিএনজি স্টেশনের সংকট খুবই সাময়িক, এটি থাকবে না।’ মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, একটি এফএসআরইউতে (এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এ কারণেই সিএনজি স্টেশনগুলোতে কিছুটা লাইন দেখা গেছে। তিনি বলেন, দেশে প্রতিদিন প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে প্রতিদিন সরবরাহ করা যায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন কাজ হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
