|
মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে নাজিরের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে নাজিরের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের অন্যতম সহযোগী হিসেবে রাজিব দত্তের বিশেষ পরিচিতি ছিল। সেসময় কেরানীগঞ্জের ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগের তালিকার শুরুতেই রাজিব দত্তের নাম উঠে আসতো। মূলত শাহীন চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থাকা ভূমি সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি কেরানীগঞ্জে অঢেল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন। সেই সময়েও অফিস সহায়কের সহযোগিতায় ২৫-৩০ সদস্যের একটি শক্তিশালী দালাল চক্র পরিচালনার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, কেরানীগঞ্জের সেই বিতর্কিত অধ্যায় পেছনে ফেলে সম্প্রতি তিনি মোহাম্মদপুর রাজস্ব সার্কেলে যোগদান করেছেন। এখানে যোগদানের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তিনি পুনরায় দালাল সিন্ডিকেটকে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, রাজিব দত্তের এই কর্মতৎপরতা অব্যাহত থাকলে মোহাম্মদপুর রাজস্ব অফিসের স্বাভাবিক ভূমি সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং পুরো অফিসটি দালালের কব্জায় চলে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, সরকারি নিয়মে আবেদনের পরও তার ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। পরে অফিসের বাইরে অবস্থানকারী এক দালালের পরামর্শে রাজিব দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফাইল ছাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা উৎকোচ দিয়ে তিনি কাজ উদ্ধার করেন। একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, নামজারি ও অন্যান্য ভূমি সেবার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, কেরানীগঞ্জে থাকাকালে দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে সে সময় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার সাহসের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। নিজের প্রভাবশালী অবস্থানের দম্ভ দেখিয়ে রাজিব দত্ত বিভিন্ন সময় সহকর্মীদের কাছেও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, "এসব বিষয় আমি আমলেই নিই না। আমার বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কিছু বলে। কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিক আমার পকেটে আছে। যা খুশি লিখুক, আমার কিছু হবে না।" তবে এমন দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। সুশাসন নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অফিসে দালাল নির্ভরতা কমাতে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা জরুরি। অন্যথায় দুর্নীতির এই সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে। ভুক্তভোগীরা রাজিব দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলকে দালালমুক্ত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
