|
থানায় আসামি মৃত্যুর গুজব; বরিশালে পুলিশ-স্থানীয়দের সংঘর্ষে আহত ১২
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() থানায় আসামি মৃত্যুর গুজব; বরিশালে পুলিশ-স্থানীয়দের সংঘর্ষে আহত ১২ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিম, সিপাহী লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। এছাড়া রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) এবং মমতাজ বেগমসহ (৪৭) আরও কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানা গারদের সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, সবুজ টি-শার্ট পরিহিত রিয়াজ ফকির গারদে প্রবেশ করে গারদের লোহার গেটের সঙ্গে নিজের মাথা ঠুকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে রিয়াজের জ্ঞান ফিরে না আসায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় হলেও রিয়াজের জ্ঞান না ফেরায় বৃহস্পতিবার বিকেলে এলাকায় তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তার আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে থানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে। এসময়ে পুলিশ বাধা দিতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা থানায় ঢুকে ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে মারধর করে। এসময় পুলিশও মিছিলকারীদের ওপর বাশঁ ও লাঠি নিয়ে হামলা করে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত রিয়াজ ফকির বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম বলেন, 'আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। যার জন্য গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।' আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, 'চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে জেলখানায় বসে বুধবার রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে বরিশাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।' তিনি আরও বলেন, 'পরিকল্পিতভাবে রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করে। থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
