|
মিলিমিটারের ব্যবধানে স্বপ্নভঙ্গের পর যন্ত্রণাময় অপেক্ষায় ইরান
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() মিলিমিটারের ব্যবধানে স্বপ্নভঙ্গের পর যন্ত্রণাময় অপেক্ষায় ইরান স্মরণীয় সাফল্য আর হৃদয়ভঙ্গের যন্ত্রণার ব্যবধান মাত্র কয়েক মিলিমিটারই! একটু পর তা স্পষ্ট হলো আরেক দফায়। ইরানের মেহদি তারেমির হেড লাগল ক্রসবারে। শেষ পর্যন্ত আর হলোই না। শুরুর দিকে পেনাল্টি মিস করা দলটি পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরলেও জয়ের দেখা পেল না। জিতলেই প্রথমবার নকআউটে পৌঁছে যেত ইরান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির জন্য সেটি হতো অপার আনন্দের এক উপলক্ষ। কিন্তু বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে মিশরের সঙ্গে তাদের লড়াই শেষ হলো ১-১ গোলে। একই সময়ে আরেক ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে গ্রুপের সেরা হয়েছে বেলবিজয়াম। মিশর ৯২ বছর পর নকআউটে খেলা নিশ্চিত করেছিল আগেই। তিন ম্যাচে তিন ড্রয়ে তিন পয়েন্ট পাওয়া ইরানের অপেক্ষা এখন সেরা তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলির একটি হওয়ার। সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালের এই ম্যাচে গ্যালারিতে মিশরীয় সমর্থকই ছিল বেশি। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইরানি সমর্থকও ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিপ্লব-পূর্ববর্তী পতাকা নাড়াচ্ছিলেন এবং ইরানের জাতীয় সঙ্গীতের সময় দুয়ো দিচ্ছিলেন। ম্যাচের শুরুটা ছিল দারুণ প্রাণবন্ত। ইরান শুরু থেকেই আক্রমণে উঠতে থাকে। অন্যদিকে মিশরও ভালোভাবে বল আদান-প্রদান করে গুছিয়ে নেয়। গোলও পেয়ে যায় তারা দ্রুত। পঞ্চম মিনিটে দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে মাহমুদ ত্রেজেগের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় এগিয়ে গিয়ে বাঁ পায়ের শট নেন মোহামেদ সালাহ। ইরানের গোলকিপার আলিরেজা বেইরনভান্ড বল ঠেকালেও মুঠোয় নিতে পারেননি। ফিরতি বল ধরে আলিরেজার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন মাহমুদ সবের। অষ্টম মিনিটে ইরানের একটি বিপজ্জনক আক্রমণ রুখে দেন মোহামেদ হেনি। তবে পরের মিনিটেই পেনাল্টি পেয়ে যায় ইরান। গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছিলেন মেহদি তারেমি। বাধা দিতে গিয়ে তার পায়ের অগ্রভাগে মেরে বসেন মোহামেদ আব্দেলমোমেন। কোনো দ্বিধা না করে পেনাল্টি দেন রেফারি। শট নেন তারেমি নিজেই। কিন্তু ইরানের সবচেয়ে বড় তারকা ও দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলস্কোরার এবার ব্যর্থ। তার শটে জোর ছিল বেশ, তবে গোলকিপারকে বিভ্রান্ত করতে পারেননি। বাঁদিকে ঝাপিয়ে দারুণভাবে আটকে দেন গোলকিপার মোস্তাফা শুবির। একটু পরই অবশ্য গোল পেয়ে যায় ইরান। বাঁদিক থেকে ইরান আক্রমণে উঠে সুযোগ তৈরি করে এবং মিলাদ মোহাম্মাদি জোরাল বাঁকানো শট নেন। গোলকিপার শুবির লাফিয়ে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন বটে। তবে বিপদমুক্ত করতে পারেননি। রেজাইয়ান দূরের কোণায় একটি চতুর ট্যাপ-ইনে বল পাঠান কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়। এই ফাউলে উল্টো চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন আব্দেলমোমেন। ২০তম মিনিটে হলুদ কার্ড পান মিশরের গোলস্কোরার সবের। একটু পরই অবশ্য গোল পেয়ে যায় ইরান। বাঁদিক থেকে ইরান আক্রমণে উঠে সুযোগ তৈরি করে এবং মিলাদ মোহাম্মাদি জোরাল বাঁকানো শট নেন। গোলকিপার শুবির লাফিয়ে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন বটে। তবে বিপদমুক্ত করতে পারেননি। রেজাইয়ান দূরের কোণায় একটি চতুর ট্যাপ-ইনে বল পাঠান কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়। এবারের আসরে তার দ্বিতীয় গোল এটি। ৩৪তম মিনিটে তার শটই ওপর দিয়ে চলে যায়। পরের সময়টায় ড্রিবল ও গতি দিয়ে বারবার ইরানের রক্ষণে হুমকি ছড়ান সালাহ। তবে ইরানও জবাব দেয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বড় বাঁচা বেঁচে যায় মিশর। বক্সে আসা একটি ক্রস পাঞ্চ করে সরিয়ে দিতে লাইন থেকে বেরিয়ে আসেন গোলকিপার শুবির। কিন্তু ইরানের এক খেলোয়াড় হেড করলে তিনি বলটি পুরোপুরি মিস করেন। তবে তাদের সৌভাগ্য যে, বলটি দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না কোনো দলই। নকআউট নিশ্চিত করা মিশরের গতিতেও ভাটা পড়ে কিছুটা। ৫৮তম মিনিটে তুলে নেওয়া হয় সালাহকে। ৮৯তম মিনিটে তারেমির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে গোলকিপার ফাউলের শিকার হওয়ায় তা এমনিতেই গোল হতো না। এরপর শেষের ওই মহানাটক। গোল করে ইরানের বিশ্বজয়ের উল্লাস এবং একটু পর হৃদয় ভাঙার যন্ত্রণা। যোগ করা সময়ে ছয় মিনিটের খেলা পৌঁছে গেল দশম মিনিটে। শেষ বাঁশির পর মিশরের অনেকে যখন মাটিতে মাথা নুইয়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন স্রষ্টাকে, ইরানের ফুটবলাররা তখন মুষড়ে পড়েছেন হতাশায়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
