|
কলেজ কেলেঙ্কারি, যা যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের ফিনল্যান্ডে নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ছবি: রয়টার্স কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন শুধুই এক দুঃস্বপ্ন। একটি প্রতারক শিক্ষা এজেন্সির খপ্পরে পড়ে মা নও ফাও-এর পরিবার জমি বিক্রি করে প্রায় ১০ হাজার ইউরো (১১,৫০০ মার্কিন ডলার) হারিয়েছে। শুধু মা নও ফাও নন, তার মতো প্রায় ৩৫০ জন বার্মিজ শিক্ষার্থীর ফিনল্যান্ডে যাওয়ার স্বপ্ন এখন খাদের কিনারায়। এই বড় ধরনের শিক্ষা কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্রাইটার ফিউচার ওয়ে নামের একটি মধ্যস্থতাকারী সংস্থার বিরুদ্ধে বড় আকারের তদন্ত শুরু করেছে ফিনল্যান্ডের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ফিনল্যান্ডে যাওয়ার লোভনীয় ফাঁদ ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের হাজার হাজার তরুণ-তরুণী দেশ ছাড়তে মরিয়া হয়ে ওঠেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো ভিসা নীতি কঠোর করায় ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ডকে বিকল্প হিসেবে বেছে নেয় বিএফডব্লিউ-এর মতো বেশ কিছু এজেন্সি। অনলাইন বিজ্ঞাপনে তারা "সহজ ভিসা অনুমোদন, বিনামূল্যে শিক্ষা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো আয়ের সুযোগ"-এর মতো চটকদার প্রচার চালাতে থাকে। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডে নিবন্ধিত এই সংস্থাটি শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখানো থেকে শুরু করে বৃত্তিমূলক কলেজে ভর্তি ও বসবাসের অনুমতিপত্র (রেসিডেন্স পারমিট) এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত। শিক্ষকহীন স্কুল, লাখ লাখ টাকা হাওয়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী শহর মে সোটে বিএফডব্লিউ-এর ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে তারা হতবাক হয়ে যান। সেখানে ফিনিশ ভাষা শেখানোর মতো কোনো শিক্ষকই ছিল না। লাখ লাখ টাকা দেওয়ার পরও সহপাঠীরা মিলেই কোনোমতে একে অপরকে ভাষা শেখানোর চেষ্টা করতেন। এরপরও ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির প্রস্তাব পেলেও শেষ পর্যন্ত পাঁচজন শিক্ষার্থীর বসবাসের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে ফিনিশ কর্তৃপক্ষ। কারণ হিসেবে জানানো হয়—আবেদনপত্রে নথিপত্র জমা দিতে দেরি করা হয়েছে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২১ বছর বয়সী আরেক ভুক্তভোগী কো মিন্ট জানান, ২০২৪ সালে তার বাবা-মা তাদের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় এজেন্সির হাতে তুলে দিয়েছিলেন এবং আত্মীয়দের কাছ থেকেও ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু ভিসা তো দূরের কথা, এজেন্সির অতিরিক্ত ফির দাবি মেটাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তাকে প্রোগ্রামটিই ছেড়ে দিতে হয়। টাকা ফেরত চাইলে এজেন্সি জানায়, তাদের সব টাকা নাকি শেষ হয়ে গেছে। মূল হোতা ফিনল্যান্ডে গ্রেপ্তার, বন্ধ হচ্ছে কার্যক্রম প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীরা যখন থাইল্যান্ডে এজেন্সির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন, তখনই জানা যায় বিএফডব্লিউ-এর প্রতিষ্ঠাতা মিন মিন সোয়ে শ্বে ফিনল্যান্ডে ফিনিশ কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্তের নেতৃত্বদানকারী জুহো সিলানপ্যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সন্দেহ করা হচ্ছে যে, এই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পড়াশোনার জায়গা ও ভিসা ঠিক করে দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটি গুরুতর চাঁদাবাজি'র পর্যায়ে পড়তে পারে। এদিকে ফিনল্যান্ডের আইসালমি শহরের একটি বৃত্তিমূলক কলেজ এডুসাভো ওয়াই এই এজেন্সির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়ার কথা থাকলেও, সময়মতো টিউশন ফি না পাওয়ায় চুক্তি বাতিল করেছে। থাইল্যান্ডে থাকা বিএফডব্লিউ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফিটাক পাকায় জানিয়েছেন, তারা তাদের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছেন এবং দ্রুতই এই এজেন্সির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। নিয়ম বদলাচ্ছে ফিনল্যান্ড এই ঘটনার পর ফিনল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফিনল্যান্ডের যোগাযোগ পরিচালক টমাস সান্ড জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী বা থার্ড-পার্টি এজেন্টের মাধ্যমে জালিয়াতি রুখতে আগামী আগস্ট মাস থেকে নতুন আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই আইনের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কোনো এজেন্সির দ্বারস্থ না হয়ে সরাসরি ফিনল্যান্ডের বৃত্তিমূলক স্কুলগুলোতে আবেদনের সুযোগ পাবেন। এদিকে জমি ও জমানো সব টাকা হারিয়ে চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিন-রাত থাইল্যান্ডের কারখানায় কাজ করছেন অনেকে। আর মা নও ফাও লজ্জায় নিজের দেশেও ফিরতে পারছেন না। তিনি বলেন, যখন লোকটির (প্রতিষ্ঠাতা) গ্রেপ্তারের খবর এলো, তখন আমার মা বুঝতে পারলেন যে আমরা আসলে এক ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছি। সূত্র: বিবিসি
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
