ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মার্কিন অভিযানের আশঙ্কায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার নিয়ে নতুন পদক্ষেপ ইরানের
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 13 June, 2026, 12:11 PM

মার্কিন অভিযানের আশঙ্কায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার নিয়ে নতুন পদক্ষেপ ইরানের

মার্কিন অভিযানের আশঙ্কায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার নিয়ে নতুন পদক্ষেপ ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় নিজেদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার আরও সুরক্ষিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে কয়েকটি সুড়ঙ্গ ধসিয়ে দিয়েছে এবং প্রবেশপথগুলোতে বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রেখেছে।

সূত্রগুলো বলছে, প্রায় আধা টন অস্ত্র-মানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামে পৌঁছানো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। মাত্র এক মাস আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি ইউরেনিয়াম জব্দ করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ধ্বংস করার যে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

ইরানের জাতিসংঘ মিশন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও সিএনএনের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় খুলে দেওয়া এবং চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনার অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম নিরাপদে নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার বলে বারবার উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফ করা ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দুই পক্ষ এমন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে, যার আওতায় ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে। পরে সেগুলো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হবে এবং দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত নিয়ে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। চুক্তির খসড়ার কথিত একটি পাঠ শুক্রবার ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নিজের পক্ষেও ভূগর্ভস্থ স্থানে রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া সহজ হবে না। এর জন্য ভারি খননযন্ত্র ও মাইন অপসারণ কার্যক্রম প্রয়োজন হবে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পারমাণবিক উপাদান অপসারণ কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্কট রোকার বলেন, এই তথ্য সত্য হলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে জটিল হয়ে পড়বে।

তার মতে, এ পরিস্থিতি ইরানকে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগও দিতে পারে। যদি ইরানকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পুরো ইউরেনিয়াম মজুত এক স্থানে নিয়ে আসতে বলা হয়, তাহলে তেহরানের ওপরই সব উপাদানে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব বর্তাবে।

রোকার সতর্ক করে বলেন, ইরান দাবি করতে পারে যে ইউরেনিয়ামের একটি অংশ আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ওই উপাদানের ওপর তাদের পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, ইরানের অধিকাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মধ্যাঞ্চলের ইসফাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সের ধসে পড়া সুড়ঙ্গগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া কিছু উপাদান অন্য স্থাপনাতেও রাখা হয়েছে।

সিএনএনের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওই পারমাণবিক উপাদান জব্দ করার একটি অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে ঝুঁকি অত্যধিক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়।

এরপর থেকে ইরান ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণস্থলগুলোকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, জোরপূর্বক ওই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে ইরানের পক্ষেও সহজে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, আমরা জানি সেখানে ঠিক কী ঘটছে। কেউই এর কাছাকাছি পর্যন্ত যেতে পারেনি।

তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলোর ধারণা, ইউরেনিয়ামকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে প্রকাশ্যে উল্লেখ করার মাধ্যমে ট্রাম্প অনিচ্ছাকৃতভাবে ইরানকে তাদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত করার প্রেরণা দিয়ে থাকতে পারেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বিস্তারিত কারিগরি আলোচনা প্রয়োজন হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশ থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশেষায়িত মোবাইল ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট মোতায়েন করতে হতে পারে। এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ টেনেসির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ পারমাণবিক উপাদান অপসারণ বিশেষজ্ঞদের জন্যও কাজটি সম্পন্ন করতে উল্লেখযোগ্য সময় লাগবে। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status