ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৪ মে ২০২৬ ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
রাস্তাতা তো নয়, যেন মরণ ফাঁদ
বাবুল আহমেদ, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: Monday, 4 May, 2026, 1:31 PM

রাস্তাতা তো নয়, যেন মরণ ফাঁদ

রাস্তাতা তো নয়, যেন মরণ ফাঁদ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াজুরী–ঘিওর আঞ্চলিক সড়কের বানিয়াজুরী থেকে ঘিওর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশজুড়ে ভয়াবহ খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অবস্থা চরমভাবে নাজুক হয়ে পড়েছে। ফলে এটি এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা এবং বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বালিয়াখাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় সড়কের একপাশ ধসে নিচু হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে চলন্ত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন ভারসাম্য হারিয়ে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে। ফলে চালক ও যাত্রীরা আহত হচ্ছেন নিয়মিত।

বৈলট গ্রামের বাসিন্দা মোবারক হোসেন জানান, তার বাবা হ্যালোবাইকে করে বানিয়াজুরী থেকে বাড়ি ফেরার পথে বালিয়াখাড়া বাজারের কাছে দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি অটোরিকশা উল্টে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার পা ভেঙে যায়। চিকিৎসার পেছনে তাদের পরিবারকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

পুরান গ্রামের সুমন দেওয়ান শাকিব বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু বালিয়াখাড়া বাজার এলাকা নয়, সড়কের একাধিক অংশেই একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও পানি জমে থাকায় সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে চালকদের জন্য সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বালিয়াখোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ আওয়াল খান বলেন, সড়কের বিভিন্ন অংশ খানা-খন্দে ভরে গেছে। বিশেষ করে বালিয়াখাড়া বাজার এলাকায় একপাশ নিচু হয়ে যাওয়ায় চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী দৈনিক নতুন সময়কে জানান সড়কটির বর্তমান খারাপ অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। ইতোমধ্যে ‘আমফান প্রকল্পের’ আওতায় সড়কটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাশিতা-তুল ইসলাম দৈনিক নতুন সময়কে
বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থা সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। এটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক, যা প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে মানুষের দুর্ভোগ কমে এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status