|
কুড়িগ্রামে বিসিক শিল্প নগরীতে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী অভাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভবনা ভেস্তে যাচ্ছে
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রামে বিসিক শিল্প নগরীতে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী অভাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভবনা ভেস্তে যাচ্ছে আজ ২৫ এপ্রিল শনিবার কুড়িগ্রামের বিসিক শিল্প নগরীর চৌহদ্দি ঘুরে জানা যায়, বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮১ ইং সালে ২০ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের জেলা শহর থেকে ৬ কিঃ মিঃ দূরে গড়ে তোলা হয়। শুরুতেই কৃষি নির্ভরশীন জেলায় কৃষি ভিক্তিক বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে অধিকাংশ প্লটে স্থাপন করা হয় চালকল। প্রযুক্তিতে অটো রাইস মিল আসায় এই শিল্পনগরীর এনালক যুগের স্থাপিত চালকল চাতাল গুলোর অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে এই শিল্প নগরীর স্থাপিত মিল কারখানা গুলো খুড়িয়ে চলছে। শিল্পনগরীতে ৮৮ টি উন্নত এবং ৪৫ টি অনুন্নত প্লট এর মধ্যে বরাদ্দকৃত অনুন্নত ৬ টি প্লট ৪৩ তম সভায় বাতিল করা হয়েছে। বাতিলকৃত প্লট এখনো কাউকে নতুন করে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এই শিল্পনগরীতে উৎপাদনরত খাদ্য ও খাদ্যজাত শিল্প রয়েছে ২২ টি। নির্মাণাধীন ১ টি এবং বন্ধ আছে ২ টি। উৎপাদনরত বস্ত্র ও বস্ত্রজাত শিল্প ৪টি, পাট ও পাটজাত শিল্প ২ টি, রসায়ন ও ঔষধ শিল্প ৭ টি, প্রকৌশল শিল্প ১ টি রয়েছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ১ হাজার ১ শত ২৪ জনের। এর মধ্যে নারীদের কর্মসংস্থান হয়েছে ৪ শত ২৪ জনের। শিল্পনগরীতে স্থাপিত শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদন চলমান থাকলেও শিল্পে তারা কুড়িগ্রামে ক্ষুদ্র ও কুটির তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারচ্ছে না। এই শিল্প নগরীর অধিকাংশ কারখানা নাম মাত্র উৎপাদন করে থাকে, যাতে করে তাদের বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল না হয়। অপর দিকে, বিসিক জেলা কার্যালয় ও শিল্প নগরী যৌথ ভাবে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছেন এই জেলায়। জানা যায়, ২০২১ ইং সাল হতে প্রনোদনার আড়াই কোটি টাকা এবং ২০১৫ ইং সাল হতে বিনিত ষাট লক্ষ টাকার ঋণ আদান-প্রদানের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩ শত ৬৫ জন উদ্যোক্তা ঋণ গ্রহণ করে তা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন উল্লেখযোগ্য। এই জেলার নারী উদ্যোক্তারা উচ্চ পর্যায়ের সহযোগীতা পেলে তারা শিল্পে ভালো বিনিয়োগকারী হতে পারবেন। নারী উদ্যোক্তা লাকী আক্তার, ইয়াছমিন বেগম, সুলতানা রাজিয়া, জুলিয়া জুলকারনাইন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ নারী উদ্যোক্তা হয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের উৎপাদিত পন্য দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। আমরা উচ্চ পর্যায়ের সহযোগীতা পেলে এই জেলার জন্য ভালো বিনিয়োগকারী হতে পারবো। শিল্প নগরীর বিনিয়োগকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, এই শিল্প নগরীতে চালকল চাতালের সংখ্যাই বেশি। অটো রাইস মিলস চালু হওয়ায় এই শিল্প নগরীর অনেক চালকল শিল্পে ধ্বস নেমে আসে। তারা কোন রকমে শুধু তাদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। হাসিনা সরকারের পতনের পরে এই শিল্পনগরীর প্লট বরাদ্দ পাওয়া অনেক বিনিয়োগকারী গা- ঢাকা দিয়েছেন। তাদের কারখানা গুলো দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ আছে। কুড়িগ্রামের বিসিক শিল্প নগরী কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়নের একটি অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব সেইসাথে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী না থাকায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভবনা ভেস্তে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করলে এই শিল্পনগরী রাস্তা গুলো সংস্কার করে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে উন্নত শিল্প কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। বিসিক কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ ব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, কুড়িগ্রাম কৃষি প্রধান জেলা হওয়ায় শিল্পনগরী গড়ে উঠেছে কৃষি ভিক্তিক। এই জেলার চিলমারী উপজেলায় একটি নৌ-বন্দর এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সোনাহাট স্থলবন্দর আছে। আমাদের বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন এলাকায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে। এখন এই শিল্পনগরীতে বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে ভালো কিছু করা সম্ভব। আমরা ঋণ কার্যক্রমে ভালো উদ্যোক্তা ও ভালো বিনিয়োগকারী তৈরির জন্য চেষ্টা করছি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
