|
মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতাসহ আরও যেসব সুবিধা পান এমপিরা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতাসহ আরও যেসব সুবিধা পান এমপিরা আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের একজন এমপির মাসিক পারিশ্রমিক ৫৫ হাজার টাকা। তাদের মাসিক যাতায়াত ভাতা ৭০ হাজার টাকা, নির্বাচনী এলাকা ভাতা সাড়ে ১২ হাজার টাকা, আপ্যায়ন ভাতা ৫ হাজার টাকা, টেলিফোন ভাতা ৭ হাজার ৮০০ টাকা, ধোলাই ভাতা দেড় হাজার টাকা ও চিকিৎসা ভাতা ৭০০ টাকা। ভাতাগুলো আয়করমুক্ত। নির্বাচনী এলাকায় অফিস রক্ষণাবেক্ষণ খরচ হিসেবে ১৫ হাজার টাকা করে পান সংসদ সদস্যরা। থালাবাসন, টয়লেট্রিজ ও অন্যান্য পণ্য কেনার জন্য পান ৬ হাজার টাকা করে। এ নিয়ে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এনসিপির এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ উপজেলায় বসার জন্য অফিস পেয়ে যাতায়াতের সুবিধার জন্য গাড়ির সুবিধা চান। হাসনাত আব্দুল্লাহর ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকারের অনুমতিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো বিলাসিতা বা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার ব্যাপারে শুরুতেই অনুশাসন দিয়েছেন। এমনকি বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের জন্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোসহ সরকারি কর্মকর্তাদের লোন সুবিধাও সীমিত করা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যের দাবির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো বিহিত ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর বিরোধীদলের নেতা ড. শফিকুর রহমান আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবিকে কগনিজেন্সে নেয়ার জন্য ট্রেজারি বেঞ্চকে ধন্যবাদ জানান। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নেতিবাচক বা কঠোর অবস্থানের বিষয়ে তিনি কিছুটা রসিকতা করে বলেন, ছোটদের আবদারে সবসময় ‘না’ বলতে নেই। হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো তরুণ সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুত নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে এটি বিবেচনার আশ্বাস দিলে তিনি আরও খুশি হতেন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দলগুলো ৬টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষতি নারী আসন পেয়ে থাকে। ওই হিসাবে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপির জোট ৩৬ আসন, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাবে। প্রশ্ন হচ্ছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও (এমপি) কী অন্য সংসদ সদস্যদের মতো বেতন-ভাতা ও একই সুযোগ-সুবিধা পান? এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো- সংরক্ষিত আসনের ৫০ নারী সংসদ সদস্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ বা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। এটি বিভিন্ন সময়ে সংশোধন করা হয়েছে, সর্বশেষ ২০১৬ সালে এটি সংশোধন করা হয়। আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য নিয়মিত ৫৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন ছাড়াও ন্যাম ভবনে একটি আলিশান ফ্ল্যাট, পরিবহন, অফিস, চিকিৎসা, ভ্রমণ, বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি, বিমা ও নানা ধরনের ভাতা পেয়ে থাকেন। সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মতোই নারী সংসদ সদস্যরা সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। নারী সংসদ সদস্যরা কেমন সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন? নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য একই। সংরক্ষিত এবং সরাসরি ভোটে নির্বাচিতদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যোগ্যতা এবং সুযোগ সুবিধা একই। এমপি তো এমপিই। একজন নির্বাচিত এমপি বেতন-ভাতাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরাও একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। নির্বাচন কমিশন জানায়, একজন নারী সংসদ সদস্য প্রতি মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি তিনি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনী এলাকা ভাতা পান। এছাড়া মাসিক ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হয়। নারী সংসদ সদস্যরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান। এই ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকে। নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়। এসব সুবিধা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও পান। এছাড়া, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংসদ সদস্যরা মাসে আরও কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা। বিবিধ ব্যয় ভাতা পান ৬ হাজার টাকা, যা বাসনপত্র, বিছানাপত্র, টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য নির্ধারিত। সংসদ সদস্যদের জন্য বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা। একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে সরকার নির্ধারিত শর্তে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই। পাঁচ বছর পর একই শর্তে আবার নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগও রয়েছে। তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানি করবেন না বলে জানিয়েছেন। ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা সংসদের অধিবেশন, কমিটির সভা ও দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা পান। রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে যাতায়াতে কিলোমিটারপ্রতি ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধাও দেওয়া হয়। সংসদ অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত অন্য কোনো কাজে দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পেয়ে থাকেন। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিত থাকলে সদস্যরা দৈনিক ভাতাও পান। উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারিত হারে প্রদান করা হয়। চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এই বিমা কার্যকর হয়। এছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করার বিধান রয়েছে। টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। এ খাতে মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যরা যেসব ভাতা পান, সেগুলো আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর দিতে হয় না। এছাড়া বিগত সময়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় প্লটও পেয়েছেন এমপিরা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় ইরিব্লকের সেচ মোটর চুরির ঘটনায় থানায় মামলা;গ্রেফতার-২
পাইকগাছায় কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন
সাজেকও বাঘাইছড়ির দূর্গম পাহাড়ি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট
খাগড়াছড়িতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের ফাইনালে পুলিশ লাইন্স স্কুল চ্যাম্পিয়ন, সাইফাতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
