|
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন শামসুন্নাহার সেলিনা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন শামসুন্নাহার সেলিনা কুমিল্লা জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছেন দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী শামসুন্নাহার (সেলিনা)। তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেত্রী ইতোমধ্যে দলীয় অঙ্গনে নিজেকে নিবেদিত, সাহসী ও সংগঠক হিসেবে প্রমাণ করেছেন। দাউদকান্দি উপজেলার তুলাতলী গ্রামের কৃতী সন্তান শামসুন্নাহার উচ্চশিক্ষিত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণীবিজ্ঞানে এম.এসসি এবং এলএল.বি ডিগ্রী অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ধারাবাহিকভাবে সংগঠনের জন্য কাজ করে আসছেন। ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ভবনে ( বঙ্গ ভবন) আয়োজিত কর্মসূচিতে শিশু শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। সেই থেকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানীত। সেলিনা ১৯৯০ সালে ছাত্রদলের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৯৬ সাল থেকে মূল দলের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হন। ১৯৯৮ সালে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য পদ লাভের পর সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দাউদকান্দি থানা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এবং পরবর্তীতে কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকাসহ বিভিন্ন পদে থেকে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে কুমিল্লা উত্তর জেলায় নারী সংগঠন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ায় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দলের বিভিন্ম কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটা সংসদ নির্বাচনে তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা - ১ এর দলীয় প্রার্থী বিএনপির স্হায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর জন্য মহিলাদের সংগঠিত করে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে ধানের শীষের পক্ষে ভোট সংগ্রহে ব্যাপক প্রশংসিত হন। এমনি ভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে দলে তার অবস্থান করে নেতার ঘনিষ্ঠতা অর্জন করেন সেলিনা। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রোড মার্চ, লং মার্চ , বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কর্মসূচি, সাম্প্রতিক সংস্কার কর্মসূচির প্রচার—সবখানেই তিনি মাঠে ছিলেন। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেও অংশ নেন এবং ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মুখেও পিছিয়ে যাননি। পেশাগত জীবনেও তিনি সফল। দীর্ঘ সময় ব্যাংকিং খাতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিদেশেও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করেছেন। ব্যাংকের চাকুরী জীবনে সৈরাচার আওয়ামী লীগ আমলে সেলিনা বহু লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে তিনি আর্থিক ভাবেও ক্ষতি গ্রস্থ। বর্তমানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে শামসুন্নাহার সেলিনা জানান, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন এবং কুমিল্লার সার্বিক অগ্রগতির জন্য কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য। দলীয় হাইকমান্ড ও নেতাকর্মীদের প্রতি আস্থা রেখে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল সংযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে অনেকেই মনে করছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। সংরক্ষিত আসনের নারী প্রার্থীদের বাছাইয়ের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন দলের সাথে কাজ করছেন। তবে তাদের নির্বাচনের বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শিদ্বান্তই চূড়ান্ত। আমরা আশা করছি এ ক্ষেত্রে যোগ্যরাই সুযোগ পাবে এবং ত্যাগী নেত্রীদের সঠিক মূল্যায়ন হবে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
