|
মেধাবীদের পাশে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন: স্কলারশিপ গেট-টুগেদার ও রিইউনিয়ন অনুষ্ঠিত
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মেধাবীদের পাশে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন: স্কলারশিপ গেট-টুগেদার ও রিইউনিয়ন অনুষ্ঠিত রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, অনুপ্রেরণামূলক সেশন, পুরস্কার বিতরণ এবং উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে গত ১৬ বছরের সাফল্য, অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সুধীজনদের অংশগ্রহণে একটি প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রেখেছিলেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। বক্তব্যে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “গ্রোথ মাইন্ডসেট এবং কর্মমুখী শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে এবং সেই দক্ষতা দিয়ে জাতি গঠনে এগিয়ে যেতে হবে।” তিনি আরও বলেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরলস পরিশ্রমই একজন মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যায়। তিনি ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের যাকাত ভিত্তিক স্কলারশিপ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে ১৬টি ব্যাচে ২৭৯ জন শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান করেছে। বর্তমানে ৯০ জন শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপের আওতায় আছে এবং ১৮৯ জন সফলভাবে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করে অ্যালামনাই হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ১৭তম ব্যাচ শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০২ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। এর মধ্যে ২৪ জন সরকারি চাকরিতে, ৪০ জন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে, ৬ জন উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং ৮ জন বিদেশে কর্মরত বা উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত আছে।” ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন জানায়, এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, বরং একটি কার্যকর মানবসম্পদ উন্নয়ন মডেল হিসেবে কাজ করছে। এ পর্যন্ত এই প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে ৭ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের জন্য নেতৃত্ব উন্নয়ন, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ এবং সফট স্কিল ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলে তারা দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে। এছাড়া, পুরো স্কলারশিপ কার্যক্রমটি একটি ডিজিটাল অটোমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে অনলাইন আবেদন, পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, ডাটা ব্যবস্থাপনা এবং অ্যালামনাই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত আছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পূর্বে একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের ১৬ বছরের অর্জন তুলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন জানায়, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে একটি দক্ষ, স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, সুধীজন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
