|
অ্যাপোলোর পর এবার আর্টেমিস: চাঁদ জয়ের পথে নতুন ইতিহাস
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() অ্যাপোলোর পর এবার আর্টেমিস: চাঁদ জয়ের পথে নতুন ইতিহাস কেবল চাঁদের পৃষ্ঠে পা রাখাই নয়, বরং সেখানে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও পরবর্তী ধাপে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে এ প্রকল্পকে দেখা হচ্ছে। রয়টার্স লিখেছে, চীনের সঙ্গে ক্রমাগত প্রতিযোগিতার মুখে মহাকাশে নিজেদের নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য আর্টেমিস মিশনটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ও নতুন নেতৃত্বের অধীনে বড় ধরনের পরিবর্তনসহ আর্টেমিস কর্মসূচির প্রধান কিছু মাইলফলক এবার দেখে নেওয়া যাক– ২০১৭-২০১৮: আর্টেমিস কর্মসূচির পুনরুজ্জীবন প্রথম মেয়াদে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে তারা দীর্ঘ সময় ধরে মঙ্গল গ্রহকে প্রাধান্য দেওয়ার বদলে আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর দিকে মনোযোগ দেয়। এ অভিযানটি ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ বা এসএলএস রকেট ও ‘ওরিয়ন’ ক্রু ক্যাপসুলকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। এসব হার্ডওয়্যার আগে বাতিল হওয়া ‘কনস্টেলেশন’ কর্মসূচির অধীনে পরিকল্পিত ছিল। এতে বোয়িং এসএলএস রকেটের মূল অংশের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে, ‘নরথ্রপ গ্রুম্যান’ রকেটের কঠিন জ্বালানিচালিত বুস্টার ও লকহিড মার্টিন ওরিয়ন মহাকাশযান তৈরির কাজ করছে। ২০১৯: লক্ষ্যমাত্রা দ্রুততর করার ঘোষণা ২০১৯ সালে হোয়াইট হাউস ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করে। ‘মুন টু মার্স’ কর্মসূচিটি মাস খানেক পরই ‘আর্টেমিস’ নামে পরিচিতি পায়। ওই সময় তিনটি অভিযানের একটি রূপরেখা তৈরি করেছিল নাসা, যেখানে রয়েছে ‘আর্টেমিস ১’ বা একটি চালকবিহীন পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, ‘আর্টেমিস ২’ বা চাঁদ প্রদক্ষিণকারী মানববাহী মিশন ও ‘আর্টেমিস ৩’ বা চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ। ২০২০-২০২১: ক্রমাগত দেরি ও ল্যান্ডার নির্বাচন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ, অতিরিক্ত খরচ ও কোভিড মহামারীর কারণে এসএলএস রকেট, ওরিয়ন মহাকাশযান ও কেনেডি স্পেস সেন্টারের উৎক্ষেপণ অবকাঠামোর কাজ পিছিয়ে যায়। নাসা এ কর্মসূচির প্রথম লুনার ল্যান্ডার হিসেবে ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ রকেটকে বেছে নেয়। ২০২৪ সালের লক্ষ্যমাত্রা বহাল রাখা হলেও নাসা স্বীকার করে নেয় যে, এটি সম্ভব নাও হতে পারে। ২০২২: আর্টেমিস ১ এর সফল উৎক্ষেপণ ২০২২ সালের নভেম্বরে নাসা ‘আর্টেমিস ১’ উৎক্ষেপণ করে, যেখানে একটি চালকবিহীন ওরিয়ন মহাকাশযানকে ২৫ দিনের মিশনে চাঁদের আশপাশে ঘুরিয়ে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়। এ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশে ন্যাভিগেশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উচ্চগতিতে বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় ওরিয়ন মহাকাশযানের হিট শিল্ড বা তাপ সুরক্ষা কবচ পরীক্ষা করা হয়, যা নভোচারীদের নিয়ে উৎক্ষেপণের আগের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। ২০২৩-২০২৪: কর্মসূচির পুনরায় সমন্বয় নাসা স্পেসএক্সের স্টারশিপকে বেছে নেওয়ায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়ে। এরপর, ২০২৩ সালে জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন’কে দ্বিতীয় লুনার ল্যান্ডার সরবরাহকারী হিসেবে যোগ করে সংস্থাটি। পরবর্তী সময়ে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের অধীনে নাসা আর্টেমিসের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করে এবং প্রথমবার নভোচারীসহ চাঁদে অবতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়। বাজেট নিয়ে নানা পর্যালোচনার মধ্যেও নাসা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং একইসঙ্গে চাঁদে যাওয়ার বিষয়ে চীনের সমান্তরাল উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেছে। ২০২৪: আর্টেমিস ২-এর নভোচারীদের নাম ঘোষণা নাসা ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে। তারা হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ ও কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭-এর পর এটিই হবে চাঁদের অভিমুখে প্রথম মানববাহী অভিযান। ২০২৬: নতুন নেতৃত্বে আর্টেমিস কর্মসূচির আমূল পরিবর্তন দায়িত্ব নেওয়ার পর নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান আর্টেমিস কর্মসূচির ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তিনি ‘লুনার গেটওয়ে’ বা চাঁদকে প্রদক্ষিণকারী প্রস্তাবিত এক স্পেস স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা বাতিল করেন এবং এর বিভিন্ন সরঞ্জাম চাঁদের পৃষ্ঠে এক স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির কাজে ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া, চাঁদে অবতরণের আগে তিনি আরও অতিরিক্ত এক মানববাহী মিশন যোগ করেন। আইজ্যাকম্যানের মতে, দীর্ঘস্থায়ী চাঁদপৃষ্ঠের মিশন শুরুর আগে এ অতিরিক্ত উৎক্ষেপণটি নভোচারী ও গ্রাউন্ড টিমকে মহাকাশে কাজ করার অভিজ্ঞতা বা ‘মাসল মেমরি’ তৈরিতে সাহায্য করবে। এপ্রিল ২০২৬: আর্টেমিস ২ মিশন ২০২৬ সালের ১ এপ্রিলে ‘আর্টেমিস ২’ উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে নাসা, যা প্রায় ১০ দিনের একটি মিশন, যেখানে চারজন নভোচারী চাঁদের আশপাশ প্রদক্ষিণ করে আসবেন। এ মিশনে চাঁদের পৃষ্ঠে তারা নামবেন না। তবে নভোচারীদের পৃথিবীর চেয়ে অন্য যে কোনো মানববাহী উৎক্ষেপণের তুলনায় অনেক বেশি দূরে নিয়ে যাবে। এ মিশনের মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানের ‘লাইফ সাপোর্ট’ বা জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, ন্যাভিগেশন, যোগাযোগ ও গভীর মহাকাশে হিট শিল্ডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে, যা চাঁদে নামার প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ দশকের শেষভাগে: চাঁদে অবতরণের পরিকল্পনা আর্টেমিস কর্মসূচির লক্ষ্য, বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ল্যান্ডার ব্যবহার করে নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে ফিরিয়ে নেওয়া। নাসা বলেছে, ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের আগে মিশনটি প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ। এ মিশনের লুনার ল্যান্ডার সরবরাহের জন্য প্রতিযোগিতা করছে মাস্কের স্পেসএক্স ও জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন, যা মহাকাশ গবেষণার সরঞ্জাম তৈরিতে বিভিন্ন কোম্পানিকে যোগ করার নাসার প্রচেষ্টারই অংশ। এ আর্টেমিস অভিযানে যে ল্যান্ডারটির কাজ সবার আগে সফলভাবে শেষ হবে সেই ল্যান্ডারটি ব্যবহার করেই দলটি প্রথম চাঁদে নামবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
