ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৭ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
তারেক রহমান দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্ব রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারেন?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 14 February, 2026, 11:38 AM

তারেক রহমান দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্ব রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারেন?

তারেক রহমান দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্ব রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারেন?

১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে দেশে ফেরেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে।


বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফল অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে।
 
এর আগে জানুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার প্রথম লক্ষ্য হবে আইনের শাসন নিশ্চিত করা। এরপর অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফেরানো এবং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। নিচে সেই সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
 

জাতিকে এক করা
 
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। গত ১৫ বছরে গুমের অভিযোগও রয়েছে হাজারো মানুষের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার ক্ষত এখনও তাজা।
 
তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকে প্রতিশোধ নয়, ঐক্যের কথা বলে আসছেন। তার মতে, প্রতিশোধ দেশকে এগিয়ে নেয় না। বরং সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে পারলে দেশ সামনে এগোতে পারবে।
 
এছাড়া গত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজও তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
 

অর্থনীতি ঠিক করা

শেখ হাসিনার শেষ সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির একটি ছিল বাংলাদেশ। ২০০৬ সালে জিডিপি ছিল প্রায় ৭১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালে বেড়ে প্রায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
 
তবে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং আয় বৈষম্য বেড়ে যাওয়ায় মানুষের অসন্তোষ বাড়ে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও টাকার মান কমে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট কমেনি।
 
প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করলেও যুব বেকারত্বের হার প্রায় ১৩.৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানিতে বিধিনিষেধ দিতে হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও শিল্প খাতে।
 
বিএনপির ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি আছে, যার মাধ্যমে নারী ও বেকারদের মাসিক নগদ সহায়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এর অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
 
তারেক রহমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চান। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে তারা বিদেশে ভালো বেতনের চাকরি পেতে পারেন।
 

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক

বাংলাদেশের রফতানি আয়ের বড় অংশ আসে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি থেকে। অন্যদিকে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার বড় অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশী। তাই এই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
 
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। নির্বাচন শেষে মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
 
তারেক রহমান বলেছেন, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে কিছু চুক্তিতে অসামঞ্জস্য ছিল, যা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থই সবার আগে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়। বিনিময়ে বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
 

ইসলামপন্থি দলের ভূমিকা
 
এই নির্বাচনে বিএনপির পর সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগে দলটি নিষিদ্ধ ছিল। অতীতে বিএনপি ও জামায়াত জোট করে সরকার গঠন করেছিল। তবে এবার বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তারপরও সংসদে জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী শক্তি হিসেবে থাকবে।
 
তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এমন সব দলকে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাঁর মতে, ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় যেন দেশ আর না ফেরে, সে জন্য ঐক্য জরুরি।
 

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দেয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারেও তাদের ভূমিকা ছিল। তারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয়। 
আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রের বড় দায়িত্ব রয়েছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো, নতুন সরকার শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারবে।
 

কেন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন তারেক রহমান?
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার বড় অর্থনীতির একটি এবং ১৭ কোটির বেশি মানুষের দেশ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে পারলে তারেক রহমান শুধু দেশের ভেতরেই নয়, দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠতে পারেন।
তবে তার সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ঐক্য রক্ষা, অর্থনীতি স্থিতিশীল করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করাই নির্ধারণ করবে তিনি কতটা সফল হন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status