ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩
নদী ভাঙনে নিঃস্ব চরবাসী, জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দাবি এলাকাবাসীর
মোঃ মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি
প্রকাশ: Monday, 19 January, 2026, 2:55 PM

নদী ভাঙনে নিঃস্ব চরবাসী, জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দাবি এলাকাবাসীর

নদী ভাঙনে নিঃস্ব চরবাসী, জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দাবি এলাকাবাসীর

নদী ভাঙনের ভয়াবহতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার একটি গ্রামের সাধারণ মানুষ। প্রতি বছর বর্ষার টানা বৃষ্টি ও বন্যায় নদীর প্রবল স্রোতের কারণে নদীতীরবর্তী চরের বিস্তীর্ণ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে গ্রামের অন্তত দুইটি পরিবার তাদের একমাত্র আয়ের উৎস—চরের আবাদি জমি হারিয়ে সম্পূর্ণভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বেলছড়ি ও কালাচাদ মহাজনপাড়া এলাকায় এমন করুণ দৃশ্য এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে নদী ভাঙনের ঝুঁকি থাকলেও কার্যকর ও স্থায়ী কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। 

সর্বশেষ ভাঙনে কয়েক একর আবাদি চর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দু’টির বসতভিটা ও কৃষিকাজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা বলেন, “এই চরের জমিই ছিল আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। জমি নদীতে চলে যাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা না পেলে আমাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।”

এক সময় যে রাস্তা দিয়ে গ্রামের হাজারো মানুষের নিয়মিত যাতায়াত ছিল, নদী ভাঙনে সেই রাস্তাটিই এখন মৃত্যুঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন জ্যোতি চাকমা জানান, নদীর পাড়ের জমি ভেঙে যাওয়ার পর তার বসতভিটার পাশের রাস্তাটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে যাতায়াতের পাশাপাশি বসতঘর নিয়েও চরম শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ স্থাপন, কংক্রিট ব্লক বসানো কিংবা তীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণের দাবি জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে একাধিকবার জানানো হলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।

দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সামনে আরও বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নদী ভাঙনে নিঃস্ব চরবাসী, জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দাবি এলাকাবাসীর

নদী ভাঙনে নিঃস্ব চরবাসী, জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দাবি এলাকাবাসীর

জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও তারা নদী ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে কিনা তা এখনো অনিশ্চিত।

জনপ্রতিনিধিরা পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

নদীগর্ভে বিলীন হওয়া জমির মালিক সাজু মিয়া জানান, নিজের সব জমি হারিয়ে তিনি চুক্তিভিত্তিক বন্ধকি জমি নিয়ে কৃষিকাজ করছিলেন। কিন্তু সেটিও নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব।

একই এলাকার চান মিয়া বলেন, “নদীর পাড়ে অন্যের জমিতে বসতঘর তুলে কৃষিকাজ করে সংসার চালাতাম। নদী ভাঙনে জমি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, বসতঘরও যে কোনো সময় হারিয়ে যেতে পারে।”এলাকাবাসী অবিলম্বে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status