|
আধুনিকতার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর নাম মাজেদা
মোঃ মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি
|
![]() আধুনিকতার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর নাম মাজেদা মাজেদার বয়স ৩৫ বছর। জন্ম থেকেই দারিদ্র্য আর বঞ্চনা যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিন বোন ও চার ভাইয়ের সংসারে বেড়ে ওঠা মাজেদার পিতা জীবিকার তাগিদে এক সময় পৈতৃক ভিটেমাটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। আশ্রয় নেন নদীর পাড়ের অন্যের জমিতে। সেখানেই শাক-সবজি চাষ করে কোনোরকমে সন্তানদের দু’বেলা খাবার জোগানোর চেষ্টা ছিল তার জীবনের একমাত্র সংগ্রাম। বড় হওয়ার পর মাজেদার বিয়ে হয় নোয়াখালীর এক যুবকের সঙ্গে। চট্টগ্রামে বসবাসের সুযোগ পাওয়ায় নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা ছিল নির্মম। বিয়ের পর বাবার বাড়িতেও জোটেনি স্থায়ী আশ্রয়। কখনো অন্যের ফাঁকা ঘরে, কখনো অস্থায়ী কুঁড়েঘরে—এভাবেই কেটেছে তার দিন। বর্তমানে মাজেদার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলা মেরুং ইউনিয়নের বেলছড়ি গ্রামে। গত সতের বছরে দেশে অসংখ্য সরকারি ঘর নির্মাণ হলেও মাজেদা কিংবা তার বাবার মতো অসংখ্য ভূমিহীন মানুষ আজও সেই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন। জীবন বাঁচাতে মাজেদা শুরু করেন হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন। অল্প অল্প করে সঞ্চয় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন। একই ঘরে রান্না, ছাগল রাখা আর রাত যাপন—এই শীতের রাতে মাটির ওপর পাতলা চাদর গায়ে দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমান তিনি। বিদ্যুৎ নেই, পাকা দেয়াল নেই, নেই কোনো আধুনিক সুবিধা। আলো বলতে আদিম যুগের মতো একটি চেরাগ। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ পেলে দিনমজুরির কাজে মাঠে নামেন। কোনো দিন কাজ জোটে, কোনো দিন জোটে না। তবুও জীবন থেমে থাকে না। চারপাশে যখন মানুষ পাকা ঘর, টিনের ছাউনি, পাকা ফ্লোর আর বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় জীবন কাটায়, তখন মাজেদার ঘর ডুবে থাকে অন্ধকারে। তবু বিস্ময় জাগে—এত কষ্টের মাঝেও মাজেদার মুখে লেগে থাকে এক চিলতে হাসি। নেই না-পাওয়ার তীব্র হাহাকার। আছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, আছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য প্রত্যয়। মাজেদার জীবন যেন নিঃশব্দে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—উন্নয়নের যে গল্প আমরা বলি, তা কি সত্যিই সবার জন্য? |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
