|
এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর: কী আছে সেই নথিতে?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর: কী আছে সেই নথিতে? কেন এই ফাইল প্রকাশ? দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাট দল এবং এই কেলেঙ্কারির ভুক্তভোগীরা এই ফাইল জনসমক্ষে আনার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহুমুখী চাপের কাছে কার্যত নতিস্বীকার করেই ট্রাম্প এই বিলে স্বাক্ষর করেছেন।স্বাক্ষরের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য তার ট্রুথ সোশ্যালে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই প্রকাশের মাধ্যমে সম্ভবত ডেমোক্র্যাটদের এবং জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের সত্যতাও সামনে আসবে। কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? এই ফাইলগুলোতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ যৌন কেচ্ছা-কেলেঙ্কারির নথি। এর প্রধান বিষয়বস্তুগুলি হলো: যৌনচক্রের বিস্তারিত তথ্য, যা মার্কিন দ্বীপভূখণ্ড ভার্জিন আইল্যান্ডে এপস্টেইনের বিলাসবহুল প্রাসাদে পরিচালিত যৌনচক্রের নথি। অভিযোগ আছে, সেখানে নাবালিকা ও শিশুদের ব্যবহার করা হতো। 'লোলিটা এক্সপ্রেস' বিমান: দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন অতিথিকে এপস্টেইনের গোপন আস্তানায় নিয়ে যেতে ব্যবহৃত 'লোলিটা এক্সপ্রেস' নামের বিমান সংক্রান্ত তথ্য।মানহানি মামলার নথি: ভার্জিনিয়া জিওফ্রে (এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার) এবং এপস্টেইনের সাবেক প্রেমিকা ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে একটি মানহানি মামলার ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে সামনে আসা নথি। এপস্টেইনের সঙ্গে জড়িত ১৫০ জনের নামমার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নথিতে প্রায় ১৫০ জনের নাম রয়েছে, যাঁরা বিভিন্নভাবে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে জড়িত। এই তালিকায় রয়েছেন বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।জড়িত ব্যক্তি/ক্ষেত্রউল্লেখযোগ্য নামসাবেক প্রেসিডেন্টবিল ক্লিনটনবর্তমান প্রেসিডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্পব্রিটিশ রাজপরিবারপ্রিন্স অ্যান্ড্রু (বিতাড়িত)পপ তারকামাইকেল জ্যাকসনঅন্যান্য প্রভাবশালীডেভিড কপারফিল্ড (জাদুগর), গ্লেন ডুবিন (বিনিয়োগকারী), বিল রিচার্ডসন (নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর), অ্যালান ডারশোভিৎজ (আইনজীবী), থমাস প্রিজকার (হায়াতের চেয়ারম্যান)ধারণা করা হচ্ছে, এই ১৫০ জনের প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় এপস্টেইনের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছিলেন। এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক ও বিতর্কিত মন্তব্যসম্পর্কের উত্থান-পতন: একসময় এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। পরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। গ্রেপ্তার ও মৃত্যু: ২০০৮ সালে প্রথম এপস্টেইনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের পর ওই বছরের ১০ আগস্ট কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন।ট্রাম্প সম্পর্কে মন্তব্য: সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথিতে ২০১৮ সালে ট্রাম্প সম্পর্কে এপস্টেইনের করা বিস্ফোরক বক্তব্য রয়েছে, যেমন- আমিই তাকে (ট্রাম্প) পদচ্যুত করতে সক্ষম এবং আমি জানি ডোনাল্ড কতটা নোংরা। বিল স্বাক্ষরের ফলাফলবিলে সই হওয়ার কারণে এপস্টেইন সম্পর্কিত সমস্ত ফাইল ও তথ্য এবং ২০১৯ সালে কারাগারে তার মৃত্যুর তদন্ত সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা আবশ্যক। ডেমোক্র্যাট নেতারা এই প্রক্রিয়াগত বিলম্বের আশঙ্কা করলেও, তারা প্রেসিডেন্টকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে বিলটি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
