ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
জাতীয় দলের ৯৯ ভাগ নারী ক্রিকেটারই কুপ্রস্তাব পেয়েছেন : রেশমা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 9 November, 2025, 11:00 AM

জাতীয় দলের ৯৯ ভাগ নারী ক্রিকেটারই কুপ্রস্তাব পেয়েছেন : রেশমা

জাতীয় দলের ৯৯ ভাগ নারী ক্রিকেটারই কুপ্রস্তাব পেয়েছেন : রেশমা

জাহানারা আলমই তাঁর চোখ খুলে দিয়েছেন, জুগিয়েছেন অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহসও। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের নতুন জাগরণের সময়কার প্রতিনিধি রেশমা আক্তার আদুরিও মেয়েদের নিপীড়ন এবং নিষ্পেষণের অন্ধকার অতীত তুলে ধরলেন। কোচিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার সুবাদে এই সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার মেয়েদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের এমন ফিরিস্তি মাসুদ পারভেজকে সাক্ষাৎকারে দিলেন যে রীতিমতো ‘ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়’ হওয়ার মতো অবস্থা।

প্রশ্ন : জাহানারা আলমের অভিযোগের পর টালমাটাল বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট নিয়ে আপনারও অনেক কথা বলার আছে বলে জেনেছি।

রেশমা আক্তার আদুরি : ভুল শোনেননি। জাহানারা মুখ খোলার পর মনে হয়েছে আমারও বলতে হবে। দেখুন, জাতীয় দল একটি মেয়ের স্বপ্ন। অত দূর যেতে যে পরিমাণ সংগ্রাম করতে হয়, সেটি শুধু সেই মেয়েই জানে।

ওই পর্যায়ে যাওয়ার পর যখন কুপ্রস্তাব পায়, তখন মুখবুঝে সহ্য করা ছাড়া আর কোনো রাস্তা থাকে না। কারণ ওরা জানে, প্রতিবাদ করা মানে কষ্ট করে অর্জিত অবস্থান থেকে ওদের সরিয়ে দেওয়া হবে। আমার জাতীয় দলের ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ ছিল না। তবে আমি খুব অল্প বয়সেই কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হই।
দীর্ঘদিন নানা পর্যায়ের মেয়েদের কোচিং করানোর কিংবা ওদের পথ দেখানোর অভিজ্ঞতা থেকে জানি কতজনের সঙ্গে কত কিছু হয়ে গেছে। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারেনি। শুনলে অবাক হয়ে যাবেন, সামান্য প্রতিবাদেও মেয়েদের ওপর কত বড় শাস্তির খড়গ নেমে আসে।
প্রশ্ন : বুঝতে পারছি যে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কথা বলছেন। সেটি কোনটি?

আদুরি : কক্সবাজারে হওয়া একটি ক্যাম্পের সময়কার কথাই বলি।


খাবারের মান নিয়ে মৃদু প্রতিবাদ করেছিল লতা মণ্ডল। তাতেই ওকে ২০ দিনের জন্য সাসপেন্ড করে দিয়ে অন্যদের বার্তা দেওয়া হয় যে ওখানে থাকতে হলে মুখ বন্ধ রাখতে হবে। কাজটি করেছিলেন নারী দলের তখনকার ম্যানেজার। উনার নাম এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না। শুধু এটা মনে পড়ছে যে উনি একসময় নায়ক সালমান শাহর শ্বশুর (শফিকুল হক হীরা) ছিলেন। সামান্য খাবারের কথা বলায় এত কিছু! এবার বুঝুন যৌন হয়রানির মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে মেয়েরা মুখ খুলতে চায় না কেন। তাদের মধ্যে জাহানারা নানা জায়গায় অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়ার চেষ্টা কম করেনি। কিন্তু অভিযোগ করার রেশ ধরে ওকে তিলে তিলে মানসিক নির্যাতন করে জাতীয় দল থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেছে।
প্রশ্ন : যৌন হয়রানির যে অভিজ্ঞতা জাহানারার হয়েছে, আপনার জানা মতে এ রকম কি আরো অনেক মেয়ের সঙ্গে হয়েছে?

আদুরি : বিশ্বাস করবেন কি না জানি না। মিনু ম্যাডামের (মনোয়ার আনিস খান, বিসিবির সাবেক পরিচালক ও নারী বিভাগের প্রধান) কথা মনে আছে? উনি চলে যাওয়ার পর বিসিবির নারী বিভাগে যত পুরুষ কাজ করেছেন, সেটি বিভাগীয় প্রধান থেকে শুরু করে ইনচার্জ এবং অন্যান্য দায়িত্বে থাকা পুরুষরা—তাঁদের শতকরা ৮০ ভাগই মেয়েদের উত্ত্যক্ত করেছেন। নানা সময়ে কুপ্রস্তাব দেওয়া থেকে শুরু করে যতভাবে ‘অ্যাবিউজ’ করা যায়, তাঁরা সেটি করেছেন। এবং জাতীয় দলের শতকরা ৯৯ ভাগ ক্রিকেটারই এসবের শিকার হয়েছেন। আমি নাম ধরে ধরে বলে দিই। রেদোয়ান (আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, বিসিবির সাবেক পরিচালক ও নারী বিভাগের প্রধান) স্যারের আমল থেকে শুরু করে এই বিভাগে যত পুরুষ এসেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই মেয়েদের কুপ্রস্তাব দিয়েছেন।

প্রশ্ন : আপনার কথা শুনে বুঝতে পারছি যে অনেক বড় নাম আসন্ন। তাঁদের নাম বলবেন কি না, এটি আমি আপনাকে আরেকবার পুনর্বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ করছি। কারণ আপনার ওপরও অনেক চাপ আসতে পারে। আরেকবার ভেবে দেখবেন কি?

আদুরি : ভাবাভাবির কিছু নেই এখানে। মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েই আমি আপনার সঙ্গে কথা বলছি। আমি ভয় পাচ্ছি না। কোন পর্যায়ে গেলে জাহানারার মতো একটি মেয়ে মুখ খুলছে, বুঝতে পারেন? জাহানারাকে বলতে চাই তুমি একা নও, আমিও আছি। ওর লড়াইয়ে আমিও যোগ দিলাম। আমার ওপর চাপ আসবে, সেই ভয় আমার নেই। আমি চাই বিচার হোক। তদন্ত যখন হচ্ছে, সব কিছু নিয়ে হোক। আমাদের মেয়েদের জন্য নিরাপদে খেলার পরিবেশ তৈরি হোক। একটা সিস্টেম আসুক। বললাম না যে কাকে ছেড়ে কার কথা বলব? রেদোয়ান স্যারের সময় থেকে এখন পর্যন্ত, এই মুহূর্তে ক্রিকেট বোর্ডে অনেক বড় অবস্থানে থাকা একজনেরও সমস্যা আছে। উনারও চারিত্রিক দোষের বিষয়ে আমি অনেক মেয়ের অভিযোগ পেয়েছি।

প্রশ্ন : কে তিনি?

আদুরি : ফাহিম স্যার। নাজমুল আবেদীন ফাহিম। অনেক মেয়ের কাছ থেকেই আমি উনার চারিত্রিক সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আর উনার বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তো আছেই। বিকেএসপির মেয়েরা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো মেয়ে ক্রিকেট খেলতে পারে বলে উনি মনেই করেন না। কোরাম শুধু জ্যোতির (নিগার সুলতানা) একার নয়, ফাহিম স্যারেরও কোরাম আছে।

প্রশ্ন : অভিযোগ করলে সেটির প্রমাণও থাকা চাই। আপনার কাছে আছে?

আদুরি : এটাও লক্ষ করছি যে অনেকে এই রোল তোলার চেষ্টা করছেন যে প্রমাণ কী? আরে ভাই, কেউ কোনো মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিলে কি সেটি মাইক বাজিয়ে দেয় নাকি? হ্যাঁ, আমার কাছে প্রমাণ নেই। যেহেতু জাতীয় দলের সঙ্গে অনেক দিন আমি নেই, কিন্তু কোচিং করানোর সুবাদে অনেক নারী ক্রিকেটারের সঙ্গে আমি যুক্ত। ওরা শুধু শুধু আমার কাছে এসে দুঃখ, হতাশা, বেদনার কথা বলে কেঁদে ফেলে নাকি? আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে অনেকের কাছে গেছি প্রতিকার চাইতে। বুঝতেই পারছেন, কাজ হয়নি বলেই আজ জাহানারার কান্নাও আপনারা দেখেছেন। বললাম তো, সেই রেদোয়ান স্যারের সময় থেকে সর্বশেষ হাবিবুল বাশার (নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ) স্যার পর্যন্ত, তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগ পুরুষেরই সমস্যা ছিল। এখানে বলে রাখি, হাবিবুল বাশার স্যার সম্পর্কে আমি খারাপ কিছু কখনো শুনিনি। উনি অবশ্য নারী বিভাগে বেশিদিন ছিলেনও না। তবে বেশির ভাগেরই সমস্যা ছিল।

প্রশ্ন : আর কারা?

আদুরি : বিভাগের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে ইনচার্জ ও নির্বাচক পর্যন্ত অনেকেই। ভুলু স্যার (আব্দুল আউয়াল, বিসিবির সাবেক পরিচালক ও নারী বিভাগের প্রধান) যে কতভাবে জাহানারাকে উত্ত্যক্ত করেছে, ক্রিকেট বোর্ডে অনেকেরই তা অজানা নয়। জাহানারা ঠিকমতো মুখ খুললে আরো অনেকেরই মুখোশ খুলে যাবে। নির্বাচক (বয়সভিত্তিক দলের) সজল (সাবেক ক্রিকেটার সজল চৌধুরী) স্যারের কথাও বলতে হয়। উনার কুপ্রস্তাবের শিকার অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের অনেক ছোট ছোট মেয়ে। উনার নোংরামি নিয়ে অনেক অভিযোগ আমার কাছে আসে। আরেক জনের কথা না বললেই নয়। খেলাঘরের রুহুল আমিন বললেই তাঁকে চেনাতে সুবিধা। উনি যে কত মেয়ের নিপীড়ক, বোর্ডের হর্তাকর্তারা একটু খবর নিলেই সেটা জানতে পারবেন। শিপন স্যার (নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ) অনেক দুর্ব্যবহার করে থাকেন মেয়েদের সঙ্গে। তবে উনার চরিত্র নিয়ে বাজে কিছু কখনো আমার কাছে আসেনি। মেয়েদের আমি অনেকবার বলেছি, ‘তোরা বলছিস না কেন?’ ওরা জবাব দিত, ‘সিনিয়র আপুরাই মুখবুঝে সহ্য করে আছে, আমরা তো বলে ফল পাব না।’ এসব হতে হতে পরিস্থিতি এমন জায়গায় গেছে যে নারী বিভাগের সামান্য অফিস সহকারীও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলে। বিসিবির নারী বিভাগে নারীদেরই কোনো সম্মান নেই। এই বিভাগে সৎ ও যোগ্য মানুষদের আনা উচিত ছিল। কিন্তু দেখা যায় উল্টো। অসৎ এবং ব্যর্থ মানুষদেরই এই বিভাগে আনা হয়। তাঁদের জন্য মেয়েরা সব সময় আতঙ্কিত থাকে, ভীতি নিয়ে থাকে।

প্রশ্ন : জাহানারা তো অধিনায়ক নিগার সুলতানার বিরুদ্ধেও বিস্তর অভিযোগ এনেছেন। কতটুকু সত্য?

আদুরি : আমার জানা মতে জ্যোতির বিরুদ্ধে অভিযোগ শতভাগ সত্যি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status